বাংলাহান্ট ডেস্ক : দিল্লির (Delhi Blast) লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ নিয়ে তদন্তে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার সঙ্গে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা ‘আল-কায়েদা (Al-Qaeda) ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ বা AQIS-এর যোগ রয়েছে। ভারতের তরফে আগেই এই বিস্ফোরণের পিছনে আল কায়েদা-যোগের কথা বলা হয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে সেই দাবিরই প্রতিফলন মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় সংগঠনটির কার্যকলাপ এবং নতুন করে নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণকাণ্ডের (Delhi Blast) রয়েছে নেপথ্যে আল কায়দার হাত!
নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, AQIS দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানে সক্রিয় রয়েছে এবং বড় কোনও সাংগঠনিক কাঠামোর বদলে ছোট ছোট ‘সেল’ তৈরি করে নিজেদের কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করছে। এই সেলগুলির সঙ্গে লজিস্টিক এবং আর্থিক নেটওয়ার্কও যুক্ত রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। আফগানিস্তানের পাশাপাশি ভারত ও প্রতিবেশী বাংলাদেশেও সংগঠনটির প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘ। ফলে দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের তদন্তের পাশাপাশি গোটা অঞ্চলে জঙ্গি নেটওয়ার্কের গতিবিধির উপর নজরদারি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Delhi Blast)।
আরও পড়ুন: খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ! Domino’s-এর ৪ টি আউটলেটের লাইসেন্স সাসপেন্ড
ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায়। লালকেল্লার সামনে পরপর তিনটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণস্থলের কাছেই ছিল জৈন মন্দির ও উমাশঙ্কর মন্দির। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনেও তার প্রভাব অনুভূত হয়। এই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলার তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসতে থাকে ফরিদাবাদের একটি কথিত ‘চিকিৎসক মডিউল’-এর তথ্য। তদন্তকারীদের হাতে উঠে আসে আল ফালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের নামও।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই নাশকতার মূল ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে উমর-উন-নবির নামও সামনে আসে। তিনি আল ফালা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন বলে জানা যায়। বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনিই মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বলে তদন্তে চিহ্নিত করা হয় এবং হামলার সময় তাঁর মৃত্যু হয়। ফরিদাবাদের ওই ‘চিকিৎসক মডিউল’-কে ঘিরে তদন্তের সূত্র ধরেই নাশকতার সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক এবং তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই তদন্তের সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে উঠে আসা AQIS-এর তথ্যও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: সবথেকে বেশি ট্রেন লেট, রেলের রিপোর্ট কার্ডে ডাহা ফেল হাওড়া, বাংলার মুখরক্ষা করল এই দুই ডিভিশন
রিপোর্টের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা। রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তথ্য সংগ্রহ, লক্ষ্য নির্বাচন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজে AI-এর অপব্যবহারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্ত শুধু একটি নির্দিষ্ট হামলার নেপথ্য খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলির পরিবর্তিত কৌশল নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারত, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের গতিবিধির উপর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাই কার্যত সামনে এনেছে রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্ট (Delhi Blast)।













