বাংলাহান্ট ডেস্ক: ব্লিংকিটের পর এবার FDA-এর কোপে ডোমিনোজ (Domino’s) পিৎজা মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) নামী ফুড চেনগুলির খাবারের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য সুরক্ষা বিধি ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গত ১০ জুলাই থেকে ১১ অগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালিয়েছে রাজ্যের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA)। প্রায় এক মাসের এই অভিযানে ডোমিনোজ পিৎজা, KFC, পিৎজা হাট, ম্যাকডোনাল্ডস এবং স্টারবাকস-সহ মোট ১০৪টি সংস্থা ও তাদের বিভিন্ন আউটলেট পরিদর্শন করা হয়। তদন্তের সময় একাধিক জায়গায় খাদ্য সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত অনিয়ম নজরে আসে। এরপরই বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন।
খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে Domino’s-এর ৪ টি আউটলেটের লাইসেন্স সাসপেন্ড:
FDA-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের খাদ্য ব্যবসার লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম মেনে পরিষেবা ও খাদ্যের মান উন্নত করার জন্য ‘ইমপ্রুভমেন্ট নোটিস’ দেওয়া হয়েছে। আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই ডোমিনোজ় (Domino’s) পিৎজার চারটি আউটলেটের লাইসেন্স সাসপেন্ড করার বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। মুম্বইয়ের তিনটি আউটলেট এবং সাতারা জেলার কারাড এলাকার মালকাপুরের একটি শাখা এই তালিকায় রয়েছে। মুম্বইয়ের যে তিনটি শাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলি ভিলে পার্লে পশ্চিম, বোরিভালি পশ্চিম এবং ঘাটকোপার পশ্চিম এলাকায় অবস্থিত।
আরও পড়ুন: স্বাদে-গন্ধে অদ্বিতীয়, মাছের ভিড়ে খাঁটি পদ্মার ইলিশ চিনবেন কীভাবে?
ডোমিনোজ়ের ওই আউটলেটগুলিতে ঠিক কী ধরনের সমস্যা পাওয়া গিয়েছে, তাও জানিয়েছে মহারাষ্ট্র FDA। আধিকারিকদের পরিদর্শনে খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ, খাবারের তাপমাত্রা ঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ এবং রান্নাঘর ও অন্যান্য জায়গার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একাধিক ঘাটতি ধরা পড়ে। শুধু তাই নয়, খাদ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য-সুরক্ষা নথিপত্র ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, সেই ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা যায়। কয়েকটি আউটলেটে মেয়াদ উত্তীর্ণ সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টিও আধিকারিকদের নজরে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। এই সব কারণেই সংশ্লিষ্ট শাখাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু ডোমিনোজ় নয়, এই অভিযানের আওতায় আরও একাধিক বড় সংস্থার আউটলেটও এসেছে। অভিযানের আগের দিন মুম্বইয়ে দ্রুত ডেলিভারি সংস্থা ব্লিঙ্কিটের একটি কেন্দ্রের খাদ্য সংক্রান্ত লাইসেন্সও সাসপেন্ড করা হয়েছিল বলে জানা যায়। একই সঙ্গে রিলায়েন্স রিটেলের একটি আউটলেট নিয়েও তদন্ত চলছে। ফলে বড় ব্র্যান্ডের নাম থাকলেই খাবারের গুণমান ও খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে কোনও আপোস করা হবে না—এই বার্তাই কার্যত দিয়েছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষের খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

আরও পড়ুন: গ্যাসের দামে ফের পতন! কলকাতায় ১৪ ও ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম কত, জেনে নিন
মহারাষ্ট্র FDA-র আধিকারিক তুকারাম মুন্ডে জানিয়েছেন, খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং এই ধরনের পরিদর্শন ভবিষ্যতেও চলবে। অর্থাৎ রাস্তার ছোট দোকান হোক কিংবা বড় আন্তর্জাতিক ফুড চেন, সকলকেই নির্ধারিত খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রশাসনের এই অভিযানের ফলে একদিকে যেমন খাবারের মান নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে, তেমনই বড় সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া মানেই তাদের সব আউটলেট বা সমস্ত খাবার অনিরাপদ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে প্রশাসনিক তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তথ্যের দিকেই নজর রাখা জরুরি (Domino’s)।













