বাংলা হান্ট ডেস্ক : দেশের গিগ কর্মীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন পেনশন ব্যবস্থা (Pension Scheme) চালু করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন সিস্টেম (NPS)-এর অধীনে এই বিশেষ প্রকল্প এনেছে পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। খাবার ও পণ্য ডেলিভারি থেকে শুরু করে ক্যাব পরিষেবা কিংবা বিভিন্ন হোম সার্ভিস প্ল্যাটফর্মে যুক্ত কর্মীরা এই প্রকল্পে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করতে পারবেন।
গিগ কর্মীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা (Pension Scheme)
সবচেয়ে বড় বিষয়, মাত্র ৯৯ টাকা দিয়েই এই সঞ্চয়ের শুরু করার সুযোগ রয়েছে। গিগ কর্মীদের অনেকেরই নির্দিষ্ট মাসিক বেতন বা প্রচলিত চাকরির মতো অবসরকালীন সুবিধা থাকে না। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন ব্যবস্থায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নমনীয়তা রাখা হয়েছে। কর্মীরা তাঁদের আয় ও সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা জমাতে পারবেন।
PFRDA-র তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পে অর্থ জমা করার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়নি। ফলে ৯৯ টাকা দিয়ে শুরু করার পর পরবর্তী সময়ে নিজের সুবিধা অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে অবসরের নির্দিষ্ট বয়স নিয়ে প্রচলিত চাকরির মতো বাধ্যবাধকতাও নেই। একজন কর্মী যতদিন কাজ চালিয়ে যেতে চান, ততদিন এই পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে সঞ্চয় করতে পারবেন। অর্থাৎ বর্তমানে কম টাকা দিয়ে শুরু করলেও ভবিষ্যতে আয় বাড়লে সেই অনুযায়ী বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়ানো যাবে।
জোম্যাটো এবং সুইগির ডেলিভারি পার্টনারদের পাশাপাশি ব্লিঙ্কিট, জেপটো ও ইনস্টামার্টের মতো কুইক-কমার্স এবং গ্রোসারি ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের কর্মীরাও এর আওতায় আসবেন। একই ভাবে ওলা, উবের এবং র্যাপিডোর মতো রাইড-হেইলিং সংস্থার চালক এবং আরবান কোম্পানির মতো হোম-সার্ভিস প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও এই সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও অন্যান্য ডিজিটাল পরিষেবা প্ল্যাটফর্মে কর্মরত যোগ্য গিগ কর্মীদের জন্যও এই প্রকল্প খোলা রয়েছে।
এই পেনশন সুবিধা পেতে প্রথমে ‘গিগ ওয়ার্কার্স পেনশন স্কিম’ ক্যাটাগরির অধীনে NPS অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় প্রাথমিক KYC সম্পূর্ণ করার জন্য নাম, ঠিকানা, PAN, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাঙ্কের তথ্য দিতে হবে। আধারের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হবে। কর্মীর সম্মতি পাওয়ার পরেই Permanent Retirement Account Number বা PRAN তৈরি করে দেওয়া হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বাবা-মায়ের তথ্য এবং নমিনির বিবরণ যুক্ত করার সুযোগও থাকছে।
গিগ কর্মীদের কাজের ধরন সাধারণত পরিবর্তনশীল। কখনও একটি সংস্থার হয়ে কাজ করার পর তাঁরা অন্য প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারেন। সেই বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থায় মাথায় রাখা হয়েছে। কোনও কর্মী অ্যাগ্রিগেটর বা প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন করলেও তাঁর NPS অ্যাকাউন্ট বন্ধ হবে না। নতুন সংস্থার সঙ্গে পুরনো অ্যাকাউন্টটি লিঙ্ক করে আগের সঞ্চয় চালিয়ে যাওয়া যাবে। অবসরের সময়ে এই প্রকল্প থেকে এককালীন অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পেনশনের ব্যবস্থাও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে অবসরকালীন তহবিল গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন :চিকিৎসার জন্য একাধিক শহরে ফ্রি যাত্রা, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বদলাচ্ছে ট্রেনের নিয়ম
৬০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর কর্মীরা তাঁদের সঞ্চয়ের একটি অংশ এককালীন হিসাবে নিতে পারবেন। অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে অ্যানুইটি কেনার সুযোগ থাকবে। সেই অ্যানুইটির মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে মাসিক পেনশন পাওয়া যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত মাসে কত টাকা পেনশন মিলবে, তা নির্ভর করবে কর্মীর মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ এবং অ্যানুইটির জন্য কত টাকা ব্যবহার করা হয়েছে তার উপর। উল্লেখ্য, যাঁদের কর্মজীবনে নির্দিষ্ট পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধা নেই, সেই গিগ কর্মীদের জন্য এই প্রকল্প ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।













