বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার (West Bengal Government)। আগামী দিনে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের পাঠ্যক্রমে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনে তাঁর ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর কাজ ও অবদানের ইতিহাস পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও ভূমিকা এবার সিলেবাসে, সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)
বৃহস্পতিবার নবান্নে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিভিন্ন স্তরের পাঠ্যসূচিতে শ্যামাপ্রসাদকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাঁর জীবন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দেশ ও সমাজের প্রতি অবদান সম্পর্কে পড়ুয়াদের জানাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের (West Bengal Government) পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদের জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় স্থান পাবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ গঠনে তাঁর ভূমিকা, দেশসেবার জন্য তাঁর অবদান এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শ্যামাপ্রসাদের কাজ ও অবদান যথাযথভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়নি। রাজনৈতিক কারণেই এমনটা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করাই নয়, শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে একাধিক প্রকাশনা প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ এক সময় যুক্ত ছিলেন, তাদের উদ্যোগে এবং বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই একটি বই প্রস্তুত হয়েছে। সেই বই প্রকাশে রাজ্য সরকার সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে।
এছাড়াও গ্রন্থাগার দফতরকে শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বই প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বইটি বাংলা ও ইংরেজি, দুই ভাষাতেই প্রকাশ করা হবে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রকাশনার কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আরও কিছু উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ইকো পার্কে তাঁর একটি মূর্তি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি হুগলিতে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে একটি পাঠাগার তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় একটি বিশেষ পুস্তিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই কাজের জন্য গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরকে নোডাল এজেন্সি করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুস্তিকায় কী কী বিষয় থাকবে এবং তার কাঠামো কেমন হবে, তা নির্ধারণ করবে এই কমিটিই।

আরও পড়ুনঃ মাসে ১০ হাজারের বেশি আয়? মিলবে না অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা, জেনে নিন সব শর্ত
সরকারের (West Bengal Government) তরফে সাধারণ মানুষ, গবেষক, ইতিহাসবিদ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাছ থেকেও মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর একটি বিশেষ ডিজিটাল পোর্টাল চালু করবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেখানে যে কেউ নিজের পরামর্শ, তথ্য বা প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। পরে সেগুলি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় বিষয় পুস্তিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।













