বাংলাহান্ট ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ইরান-মার্কিন সংঘাতে ড্রোনের ব্যবহার ও তার মোকাবিলার অভিজ্ঞতা সামরিক পরিকল্পনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সেই পরিবর্তনের প্রভাব এবার ভারতের (India) দ্বিতীয় দেশীয় বিমানবাহী রণতরী, আইএসি-২- (IAC-2) এর পরিকল্পনাতেও পড়ছে বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, নতুন প্রজন্মের ড্রোন ব্যবহারের উপযোগী করে এই যুদ্ধজাহাজের নকশা ও নির্মাণ পরিকল্পনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পের খরচও প্রায় ৩০ থেকে ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রকল্পটি বর্তমানে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি বা সিসিএসের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ড্রোন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ভারতের (India) দ্বিতীয় স্বদেশি যুদ্ধজাহাজ IAC-2:
ভারতের (India) প্রথম দেশীয় বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রান্তের সাফল্যের পর দ্বিতীয় রণতরীর ক্ষেত্রে একেবারে নতুন নকশা তৈরির পথে হাঁটছে না নৌবাহিনী। বরং পরীক্ষিত ৪৫ হাজার টন ওজনের বিক্রান্তের নকশাকেই মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ খরচের প্রয়োজন কমবে। তবে বিক্রান্তের হুবহু পুনরাবৃত্তি হবে না। ভবিষ্যতের যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে আইএসি-২-এর ফ্লাইট ডেক, হ্যাঙ্গার এবং কমান্ড সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। বিশেষ করে ড্রোন পরিচালনা ও ব্যবহারের জন্য যুদ্ধজাহাজের বিমান পরিচালনা পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক করার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ১৩৫ কেজি থেকে ঝরিয়েছেন ৪৬ কেজি ওজন! ‘রোগা হওয়ার’ কৌশল জানালেন নিতিন গড়করি
এই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দীর্ঘক্ষণ আকাশে থাকতে সক্ষম মাঝারি ও উচ্চ উচ্চতায় উড়তে পারা ড্রোনের ব্যবহার। সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারির ক্ষেত্রে এই ধরনের ড্রোন প্রচলিত আগাম সতর্কীকরণ হেলিকপ্টারের তুলনায় অনেক বেশি দূর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেক থেকেই পরিচালনা করা সম্ভব এমন চালকবিহীন যুদ্ধবিমান বা ইউসিএভি যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ডিআরডিও-র ‘ঘাতক’-এর মতো চালকবিহীন যুদ্ধবিমান প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ড্রোনকে একই অভিযানে কাজে লাগানোর একটি নতুন অপারেশনাল কাঠামো তৈরি করতে চাইছে ভারতীয় নৌবাহিনী (India)।
খরচের ক্ষেত্রেও অবশ্য পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। আইএনএস বিক্রান্ত তৈরিতে আনুমানিক ২০ থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। নতুন নকশাগত পরিবর্তন, মুদ্রাস্ফীতি এবং ড্রোন ব্যবহারের উপযোগী পরিকাঠামো যুক্ত করার কারণে আইএসি-২-এর ব্যয় আরও বাড়বে বলে সূত্রের খবর। প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি খরচ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও প্রথম রণতরীর তুলনায় এই বৃদ্ধি সীমিত রাখার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নির্মাণের সময়ও কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের অভিজ্ঞতা ও তৈরি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রায় সাত থেকে নয় বছরের মধ্যে জাহাজটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ বোর্ড বর্তমানে প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক চূড়ান্ত করার কাজ করছে। অনুমোদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আইএসি-২ ভারতীয় নৌবাহিনীর সমুদ্রভিত্তিক বিমানশক্তিকে আরও আধুনিক করে তুলতে পারে। শুধু ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা নয়, দেশীয় প্রযুক্তিতে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী নির্মাণ ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যকেও আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে প্রায় ৬৫ হাজার টন ওজনের বৃহত্তর সুপারক্যারিয়ার আইএসি-৩ তৈরির ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত ভিত্তি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে (India)।













