বাংলাহান্ট ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসে (Independence Day) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) ভাষণ যেমন রাজনৈতিক ও নীতিগত বার্তার জন্য আলোচনায় এসেছে, তেমনই নজর কেড়েছে তাঁর পোশাকও। বছরের পর বছর ধরেই বিশেষ কোনও অনুষ্ঠানে মোদির পোশাক নিয়ে আগ্রহ থাকে। কারণ, তাঁর পোশাক নির্বাচনের মধ্যে অনেক সময়ই দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য কিংবা কোনও বিশেষ বার্তার ছাপ দেখা যায়। এ বারও তার ব্যতিক্রম হল না। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় (Red Fort) জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ভাষণের সময় তাঁর মাথার পাগড়িই হয়ে উঠল অন্যতম আকর্ষণ।
স্বাধীনতা দিবসে প্রত্যেকবার মতো এবারেও প্রধানমন্ত্রীর মোদির (Narendra Modi) পাগড়িতে বিশেষ বার্তা:
এদিন প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) পরনে ছিল দুধসাদা কুর্তা-পায়জামা। তার সঙ্গে ছিল বাদামি রঙের হাতাকাটা জ্যাকেট। জ্যাকেটের পকেটে রাখা ছিল তেরঙ্গা রঙের একটি স্কয়ার। তবে পুরো সাজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে মাথার লাল ও মেরুন রঙের পাগড়ি। বাঁধনি কাপড়ের তৈরি এই পাগড়িতে সাদা, হলুদ ও সবুজ রঙের ছোট ছোট বিন্দুর নকশা ছিল। ফলে পাগড়িটিতে একদিকে যেমন উজ্জ্বলতার ছাপ ছিল, অন্যদিকে স্বাধীনতা দিবসের আবহের সঙ্গেও তার রঙের একটা স্বাভাবিক মিল খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশে নির্মূল লাল-সন্ত্রাস! এবার ‘দিমাগি নকশাল’-দের চিহ্নিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদীর
মোদির বেছে নেওয়া এই বাঁধনি পাগড়ির পিছনে রয়েছে ভারতের দীর্ঘ হস্তশিল্পের ঐতিহ্য। ‘বাঁধনি’ মূলত একটি টাই-অ্যান্ড-ডাই পদ্ধতি, যার শিকড় বিশেষ করে রাজস্থান ও গুজরাটের কারুশিল্পে গভীরভাবে জড়িত। সাধারণত সুতি বা রেশমের কাপড়ের ছোট ছোট অংশ টেনে তুলে সুতো দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়। এরপর কাপড়টি রঙে ডোবানো হলে বাঁধা অংশগুলিতে রং পৌঁছতে পারে না এবং তৈরি হয় বিশেষ ধরনের বিন্দু বা নকশা। একাধিক রঙ ব্যবহারের মাধ্যমে এই নকশা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকেই প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের সাজে জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশীয় হস্তশিল্পের প্রতিও একটি বার্তা পৌঁছেছে।
তবে স্বাধীনতা দিবসে পাগড়ি বেছে নেওয়া মোদির জন্য নতুন কিছু নয়। ২০১৪ সালে প্রথমবার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে লাল রঙের পাগড়ি পরে লালকেল্লায় হাজির হয়েছিলেন তিনি। সেই পাগড়িতে ছিল সোনালি নকশা। পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৫ সালে তাঁর পাগড়িতে হলুদ রঙের প্রাধান্য দেখা গিয়েছিল। সেই পাগড়িটি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা ছোটও ছিল। পরবর্তী বছরগুলিতেও বিভিন্ন রঙ, নকশা ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যের পাগড়িতে তাঁকে দেখা গিয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের সাজ এখন অনুষ্ঠানের অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

এবারও সেই ধারাই বজায় রাখলেন মোদি (Narendra Modi)। একদিকে লালকেল্লা থেকে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য, সংস্কার এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর বক্তব্য নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে তাঁর পোশাকও কৌতূহলের কারণ হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধনি পাগড়ি বেছে নেওয়ায় দেশীয় কারুশিল্প ও আঞ্চলিক সংস্কৃতির উপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি পোশাকের মাধ্যমেও ভারতের বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার এই প্রবণতাই প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে মোদির সাজকে আলাদা করে আলোচনায় নিয়ে আসে।













