চিনা দাপটে এবার লাগাম! ভারতের বাজারে কবে প্রত্যাবর্তন ‘দেশি’ স্মার্টফোনের? জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: একসময় ভারতীয় স্মার্টফোন (Smartphones) বাজারে মাইক্রোম্যাক্স, কার্বন ও লাভার মতো দেশীয় (India) ব্র্যান্ডের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল। তুলনামূলক কম দামে ভালো ফিচার দেওয়ার কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে এই সংস্থাগুলির ফোনের চাহিদাও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে শাওমি, ভিভো, অপো এবং রিয়েলমির মতো চিনা (China) সংস্থাগুলি অত্যন্ত দ্রুত বাজার দখল করে নেয়। আগ্রাসী বিপণন, প্রতিযোগিতামূলক দাম, নতুন প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী পরিষেবা নেটওয়ার্কের জেরে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে একাধিক ভারতীয় ব্র্যান্ড। এবার সেই জায়গাতেই নতুন করে দেশীয় সংস্থার উত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই সম্ভাবনাই আরও জোরালো হয়েছে।

ভারতের বাজারে কবে প্রত্যাবর্তন ‘দেশি’ স্মার্টফোনের (Smartphones)

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন মোবাইল ফোন উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় দেশে শক্তিশালী ভারতীয় স্মার্টফোন (Smartphones) ব্র্যান্ড তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের জন্য তিনটি সম্ভাবনাময় সংস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও সংস্থাগুলির নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি, মন্ত্রীর ইঙ্গিত, আগামী ১০ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে অন্তত একটি নতুন ভারতীয় ব্র্যান্ড বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। অর্থাৎ আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই দেশের স্মার্টফোন বাজারে নতুন কোনও দেশীয় নাম দেখা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য শুধু ফোন তৈরি করা নয়, বরং দেশীয় প্রযুক্তি, নকশা এবং উৎপাদন ক্ষমতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি ভারতীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলা।

আরও পড়ুন: iPhone-এর EMI মেটানো নিয়ে বিবাদ! পাহাড় থেকে ঝাঁপ ছেলের, বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু বাবা-মারও

তবে নতুন সংস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে ইতিমধ্যেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা বিদেশি ব্র্যান্ডগুলি। সাইবারমিডিয়া রিসার্চের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের শীর্ষ পাঁচ স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের মধ্যে চারটিই চিনা সংস্থা—ভিভো, অপো, শাওমি এবং রিয়েলমি। তালিকায় একমাত্র দক্ষিণ কোরীয় ব্র্যান্ড হল স্যামসাং। গত এক দশকে এই সংস্থাগুলি শুধু বিপুল সংখ্যক গ্রাহক তৈরি করেনি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রয় ও পরিষেবা কেন্দ্রের নেটওয়ার্কও গড়ে তুলেছে। ফলে নতুন কোনও ভারতীয় ব্র্যান্ডকে বাজারে জায়গা করে নিতে হলে শুধু সস্তায় ফোন বিক্রি করলেই হবে না, প্রযুক্তি, গুণমান এবং পরিষেবাতেও নিজেদের আলাদা করে প্রমাণ করতে হবে।

ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলির অবশ্য একেবারে শূন্য থেকে শুরু করার প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা বাড়ার শুরুর সময়ে মাইক্রোম্যাক্স, কার্বন ও লাভা দেশের বাজারে যথেষ্ট পরিচিত নাম ছিল। সেই সময় বিদেশি সংস্থা স্যামসাং, নোকিয়া, এইচটিসি ও মটোরোলার সঙ্গেও ভারতীয় সংস্থাগুলি প্রতিযোগিতা করত। পরে চিনা ব্র্যান্ডগুলির দ্রুত উত্থানের ফলে পরিস্থিতি বদলে যায়। বর্তমানে লাভা এখনও দেশীয় বাজারে সক্রিয় রয়েছে এবং এআই+ এর মতো নতুন ভারতীয় ব্র্যান্ডও বাজারে এসেছে। ফলে নতুন উদ্যোগ সফল হলে পুরনো দেশীয় ব্র্যান্ডগুলির পাশাপাশি আরও কয়েকটি ভারতীয় সংস্থা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রকে নতুন করে জমিয়ে তুলতে পারে।

When will 'homegrown' smartphones make a comeback in the Indian market?

আরও পড়ুন:লস্করের সদস্যরাও দেখা করতে গেলে পেরোতে হচ্ছে একাধিক পাহারা! পাকিস্তানে হাফিজ সইদকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নতুন ভারতীয় স্মার্টফোন (Smartphones) ব্র্যান্ডের সাফল্য শুধু ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পরিচয়ের উপর নির্ভর করবে না। গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা অর্জনের জন্য ভালো হার্ডওয়্যার, নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার, আকর্ষণীয় দাম এবং দ্রুত বিক্রয়োত্তর পরিষেবা—সবকিছুর উপরই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ভিভোর মতো সংস্থাগুলি গ্রাহক পরিষেবাকে যে গুরুত্ব দিয়েছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিতে নতুন সংস্থাগুলিকেও দেশজুড়ে পরিষেবা পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। তাই আগামী ১০ থেকে ১৪ মাসে কোনও শক্তিশালী ভারতীয় ব্র্যান্ড বাজারে এলেও তার সামনে পথ সহজ হবে না। তবে পরিকল্পনা সফল হলে মাইক্রোম্যাক্স-লাভার সময়ের স্মৃতি ফিরিয়ে এনে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে ফের একবার দেশীয় প্রযুক্তির জোরালো উপস্থিতি তৈরি হতে পারে।