শুধু জেন জি নয়, নজরে জেন আলফাও! দুই প্রজন্মের কথা ভেবে রাজনৈতিক পরিসরে বড় পরিকল্পনা বিজেপির

Published on:

Published on:

Bharatiya Janata Party has big plans in the political arena with Gen-Z and Gen-Alpha.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২০২৭-এর ভোট এখনও সামনে, কিন্তু তার পরের লড়াইয়ের প্রস্তুতিও যে শুরু হয়ে গিয়েছে, বিজেপির (Bharatiya Janata Party) সাম্প্রতিক সাংগঠনিক তৎপরতায় তার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে জেন-জি-র পাশাপাশি এবার নজরে আনা হচ্ছে জেন-আলফাকেও (Gen-Alpha)। অর্থাৎ, যারা ইতিমধ্যেই ভোটার এবং যারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভোটার হবে দুই প্রজন্মের সঙ্গেই যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দল। শনিবার বিজেপির ৬৫ সদস্যের নতুন জাতীয় টিমের প্রথম বৈঠক এবং তার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে দলের নেতাদের সাক্ষাৎকে ঘিরে এই দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনাই সামনে এসেছে। বৈঠকের পর মোদি জানান, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও গভীর করার জন্য নতুন চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জেন-জি ও জেন-আলফার কথা ভেবে রাজনৈতিক পরিসরে বড় পরিকল্পনা বিজেপির (Bharatiya Janata Party):

এই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে ‘যুব সংবাদ’ অভিযান। নতুন দলের সভাপতি নীতীন নবীনের নেতৃত্বে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ১৪ থেকে ২৫ বছর বয়সি তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁদের মতামত, সমস্যা ও প্রশ্ন জানার চেষ্টা করবে বিজেপি। শুধুমাত্র মঞ্চ থেকে বক্তৃতা নয়, বরং তরুণদের নিজেদের কথা বলার সুযোগ দেওয়াই হবে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নীতীন নবীন, স্মৃতি ইরানি, বিনোদ তাওড়ে, হর্ষ সাংভি এবং ওপি চৌধুরীর মতো নেতাদের এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক স্তরে এই উদ্যোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে সংগঠন এবং সরকারের দুই স্তর থেকেই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে (Bharatiya Janata Party)।

আরও পড়ুন: বাবা দর্জি, মা দিনমজুর! অভাবের সংসারে MBBS-এর স্বপ্ন ভুলে UPSC জয় করে IAS হলেন বিজয়

এর পিছনে রয়েছে ভোটের অঙ্কও। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সি জেন-জি ইতিমধ্যেই দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক। ২০২৭ সালে একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। ফলে তরুণ ভোটারদের মনোভাব অনেক আসনে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি জেন-আলফার বড় অংশ এখনও ভোট দেওয়ার বয়সে পৌঁছয়নি। কিন্তু ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁদের একাংশ প্রথমবার ভোটার হতে পারে। তাই বিজেপির কৌশল শুধু আসন্ন নির্বাচনের ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; ভবিষ্যতের ভোটারদের সঙ্গেও এখন থেকেই যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রসমাজের বিভিন্ন আন্দোলন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণদের দ্রুত সংগঠিত হওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক দলগুলিকে এই প্রজন্মকে নতুনভাবে গুরুত্ব দিতে বাধ্য করেছে।

তরুণদের পাশাপাশি বিজেপি আগামী মাসগুলিতে সাংগঠনিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও জোর দিতে চাইছে। নতুন কেন্দ্রীয় টিমের বৈঠকে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় এক মাস দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদির শপথ নেওয়ার ২৫ বছর পূর্তিকেও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। অভিযানকে কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় স্তরে নীতীন নবীনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের কমিটি এবং রাজ্যস্তরে সাত সদস্যের কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Bharatiya Janata Party has big plans in the political arena with Gen-Z and Gen-Alpha.

আরও পড়ুন: পরীক্ষায় সফল! ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াতে প্রস্তুত ১০০ শতাংশ স্বদেশি AK-203 অ্যাসল্ট রাইফেল ‘শের’

এর পাশাপাশি ‘সেবা সেতু অভিযান’-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অথচ এখনও বঞ্চিত মানুষদের চিহ্নিত করে তাঁদের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে বিজেপির নতুন সাংগঠনিক পরিকল্পনায় ভোটের পাশাপাশি জনসংযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন জাতীয় টিমের সঙ্গে মোদির বৈঠক এবং তরুণদের নিয়ে একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা থেকে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে ২০২৯-এর লোকসভা—দুই লড়াইকেই মাথায় রেখে সংগঠনকে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে বিজেপি। আর সেই পরিকল্পনায় তরুণ প্রজন্মই হয়ে উঠছে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষেত্র (Bharatiya Janata Party)।