মহাকাশে ভারতের ‘নিজস্ব ঠিকানা’! ২০৩৫-এর মধ্যে তৈরি হবে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন, ঘোষণা ISRO-র

Published on:

Published on:

ISRO announces that the Bharatiya Antariksha Station will be built by 2035.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক সাফল্যের পর এবার ভারতের (India) আরও বড় লক্ষ্য ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’ (Bharatiya Antariksha Station)। ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে নিজেদের একটি পূর্ণাঙ্গ স্পেস স্টেশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে ইসরো (ISRO)। আহমেদাবাদে আয়োজিত তৃতীয় জাতীয় মহাকাশ দিবসের অনুষ্ঠানে ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি. নারায়ণন জানান, প্রস্তাবিত ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’-এর প্রথম মডিউল ইতিমধ্যেই অনুমোদন পেয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে সেই প্রথম মডিউল মহাকাশে পাঠানো হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও মডিউল যুক্ত করে ২০৩৫ সালের মধ্যে স্টেশনটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে মহাকাশে মানুষের উপস্থিতি এবং গবেষণার জন্য ভারতের নিজস্ব পরিকাঠামো তৈরি হবে।

২০৩৫-এর মধ্যে তৈরি হবে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন (Bharatiya Antariksha Station) ঘোষণা ISRO-র:

এই পরিকল্পনার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে গগনযান কর্মসূচি। মহাকাশচারীদের নিরাপদে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো এবং নির্দিষ্ট সময় পরে তাঁদের ফিরিয়ে আনার মতো জটিল প্রযুক্তি আয়ত্ত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। ইসরো ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্যে একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছে এবং মানববাহী অভিযানের আগে চালকহীন পরীক্ষামূলক মিশনের প্রস্তুতি চলছে। মহাকাশ স্টেশনের পরিকল্পনাও সেই দীর্ঘমেয়াদি মানব মহাকাশযাত্রারই পরবর্তী ধাপ। প্রথমে নির্দিষ্ট কক্ষপথে মডিউল পাঠানো হবে, তারপর ধাপে ধাপে তার পরিকাঠামো বাড়ানো হবে। ফলে গগনযানের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশনে মহাকাশচারীদের কাজের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে (Bharatiya Antariksha Station)।

আরও পড়ুন: খিচুড়ির সঙ্গে ভাজা বাদ দিন! টক-ঝাল এই চিংড়ির আচারে জমিয়ে তুলুন বর্ষার ভোজ

ইসরোর চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্টেশন শুধু ভারতের মহাকাশ সক্ষমতার প্রদর্শন হবে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার সম্ভাবনা। মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরিবেশে জীবনবিজ্ঞান, ওষুধ, নতুন উপকরণ এবং উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হবে। পৃথিবীতে যে পরীক্ষাগুলি করা কঠিন, মহাকাশের কম মাধ্যাকর্ষণ পরিবেশে সেগুলির নতুন ফলাফল পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও আরও প্রসারিত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি স্টেশন ভারতকে মানব মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির পরিধিও গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। প্রায় ৬৪ বছর আগে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, বর্তমানে মহাকাশ প্রযুক্তি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নানা ভাবে যুক্ত। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, টেলিযোগাযোগ, টেলিভিশন সম্প্রচার, ন্যাভিগেশন, দূরশিক্ষা, দুর্যোগের আগাম সতর্কতা থেকে শুরু করে নাগরিক নিরাপত্তা ও রিয়েল-টাইম নজরদারি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণ, সূর্য পর্যবেক্ষণ অভিযান এবং মহাকাশে ডকিং পরীক্ষার মতো সাম্প্রতিক সাফল্যও ইসরোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে আগামী দিনে শুক্রগ্রহের কক্ষপথে অভিযান-সহ একাধিক নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ISRO announces that the Bharatiya Antariksha Station will be built by 2035.

আরও পড়ুন: বদলে যাবে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ? ‘ইসলামিক ন্যাটো’-তে ইরানকে জানানো হল আমন্ত্রণ

তবে মহাকাশ স্টেশন (Bharatiya Antariksha Station) তৈরি শুধু সরকারি সংস্থার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চপ্রযুক্তির প্রকল্পে দেশীয় শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা স্টার্টআপগুলির অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জাতীয় মহাকাশ দিবসের মূল ভাবনা ছিল উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে ভারতের নেতৃত্বের সম্ভাবনা। সেই লক্ষ্যেই সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে নিয়ে এগোতে চাইছে ইসরো। ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন তৈরি হলে তা নিঃসন্দেহে দেশের মহাকাশ অভিযানের একটি নতুন অধ্যায় খুলবে। চাঁদ, সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহের দিকে নজর রাখার পাশাপাশি এবার মহাকাশে দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি তৈরির প্রস্তুতিও স্পষ্ট করে দিল ভারত।