নেপালে হড়পা বানে ভয়াবহ বিপর্যয়! ত্রাণ নিয়ে রওনা হল ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান, প্রস্তুত NDRF-ও

Published on:

Published on:

India extends a helping hand following the devastating Nepal flash floods.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: নেপালে (Nepal Flash Floods) আচমকা ভয়াবহ বন্যায় কার্যত বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। প্রবল জলস্রোতে বহু বসতি ও পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল (Nepal) ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগের পর প্রায় ৪০০ জনের খোঁজ মিলছে না। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়ও (India) রয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকদেরও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিখোঁজদের খোঁজে নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ ও নেপাল পুলিশ একযোগে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। হেলিকপ্টারের পাশাপাশি ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুরও কাজে লাগানো হচ্ছে।

নেপালে হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) ভয়াবহ বিপর্যয়! সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত:

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নেপালের পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে ভারত। ভারতীয় বায়ুসেনার একটি বিমান নেপালে প্রায় ১০ টন মানবিক সাহায্য, দুর্যোগ মোকাবিলার সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফকেও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের পরামর্শ এবং বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপাল-চিন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় হিমবাহ-হ্রদ থেকে হঠাৎ জল বেরিয়ে আসার ঘটনা বা GLOF-এর জেরে ত্রিশূলী নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে থাকতে পারে। ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে ফুরকে খোলার কাছে এই জলস্তর বৃদ্ধির খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই জলধারা গণ্ডক নদীতে পৌঁছনোর আশঙ্কা থাকায় সীমান্তবর্তী ভারতীয় এলাকাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে (Nepal Flash Floods)।

আরও পড়ুন: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু মিছিল! নিখোঁজ ৪০০ কৈলাসযাত্রী, সাহায্যের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী মোদীর

বিশেষ করে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের গণ্ডক নদী সংলগ্ন জেলাগুলিকে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় বিহারে পশ্চিম চম্পারণ ও মুজাফফরপুরে এনডিআরএফের দুটি দল মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্যে মোট নয়টি দল ইতিমধ্যেই কাজ করছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রীও গণ্ডক তীরবর্তী এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও উদ্ধারকারী দল দ্রুত মোতায়েন করা হবে। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশেও প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। গণ্ডকের কাছাকাছি হওয়ায় কুশীনগরে অতিরিক্ত একটি এনডিআরএফ দল পাঠানো হয়েছে। রাজ্যে বন্যা সতর্কতা ও উদ্ধারকাজের জন্য মোট ১১টি দল মোতায়েন রয়েছে। বিহার ও উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় জল কমিশনের সঙ্গেও সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এনডিআরএফ।

অন্যদিকে, নেপালে বন্যার প্রকৃত কারণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। নেপালের জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রাসুয়া এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে—এমন কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে সীমান্তের ওপারে তিব্বত এলাকায় হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক বিস্ফোরণ, ভূমিধস কিংবা অন্য কোনও প্রাকৃতিক কারণে নদীতে আচমকা জল বেড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর জলস্তরের দ্রুত পরিবর্তনও। আকস্মিক জলস্ফীতির জেরে রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। তিমুরে, শ্যাফ্রুবেসি-সহ একাধিক এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

India extends a helping hand following the devastating Nepal flash floods.

আরও পড়ুন: AC-র কম্প্রেসার ফেটে পাকিস্তানের হাসপাতালে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড! মৃত অন্তত ১৫ নবজাতক

বন্যার জেরে রাসুয়া ও আশপাশের নদীতীরবর্তী জনপদগুলিতে কার্যত যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শুল্ক দফতরের এলাকায় রাখা বহু যানবাহন ও পণ্যসামগ্রী প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছে। ধসে পড়েছে সদ্য নির্মিত একটি সেতুও। শ্যাফ্রুবেসি, বেত্রাবতী, মাইলুং, সালেতার, শান্তি বাজার, পারেবেসি, খালতি বস্তি, সোল, ত্রিশুলি ও বাত্তার মতো একাধিক জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নেপালে ১৪টি হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রশিক্ষিত কুকুর নামানো হয়েছে। এদিকে, গণ্ডক অববাহিকায় সম্ভাব্য জলবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে ভারতেও উদ্ধার ও ত্রাণব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের নজর এখন নদীর জলস্তর এবং নেপাল থেকে আসা জলধারার গতিপ্রকৃতির দিকে। পরিস্থিতি বদলালে দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্য দুই রাজ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখা হয়েছে (Nepal Flash Floods)।