বাংলাহান্ট ডেস্ক: নতুন প্রজন্মের যুদ্ধপ্রযুক্তিতে এবার আরও এক ধাপ এগোনোর দাবি করল ভারতের (India) ডিফেন্স স্টার্টআপ ফ্লাইং ওয়েজ ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস (FWDA)। সংস্থাটি তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর যুদ্ধবিমান ‘FWD Supreme Lite’-এর প্রথম ঝলক প্রকাশ করেছে। সংস্থার দাবি, এটি আর শুধুমাত্র ডিজিটাল নকশা বা কনসেপ্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইতিমধ্যেই প্রকল্পটি ভৌত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং টেস্টবেড পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। বেঙ্গালুরুতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে বিমানটির নকশা তৈরি ও উন্নয়নের কাজ চলছে। এই উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতের আকাশযুদ্ধে মানুষের সরাসরি উপস্থিতির ধারণাই অনেকটা বদলে যেতে পারে।
ভারতের (India) শক্তি বাড়াবে অত্যাধুনিক ফাইটার জেট:
‘FWD Supreme Lite’-এর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি চালানোর জন্য কোনও পাইলটের প্রয়োজন হবে না। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, উন্নত AI প্রযুক্তির সাহায্যে বিমানটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট মিশন পরিচালনার মতো কাজ করতে পারবে। ফলে এটি সাধারণ ড্রোনের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত এবং প্রচলিত পাইলট-নির্ভর যুদ্ধবিমানের থেকেও আলাদা একটি শ্রেণি তৈরি করতে পারে। তবে প্রকল্পটি এখনও উন্নয়ন ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। তাই বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে এর সম্পূর্ণ সক্ষমতা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত যাচাইয়ের ফলাফলের উপর।
আরও পড়ুন: ১ সেপ্টেম্বর থেকেই বদলে যাচ্ছে কলকাতার পার্কিং! আসছে নতুন অ্যাপ
এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হল FWDA-র ‘মোবিং ডকট্রিন’। প্রচলিত সামরিক ব্যবস্থায় অত্যন্ত দামি এবং অত্যাধুনিক অল্পসংখ্যক যুদ্ধবিমানের উপর অনেকটাই নির্ভর করা হয়। তার পরিবর্তে এই ধারণায় একসঙ্গে বহু AI-চালিত বিমানকে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট মিশনে একাধিক স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধবিমান একসঙ্গে কাজ করবে এবং নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। সংস্থার মতে, এই ধরনের ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম খরচে বৃহৎ আকারের আকাশশক্তি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
FWDA-র প্রতিষ্ঠাতা সুহাস তেজস্কন্দের বক্তব্য, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং একাধিক প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়বে। তাঁর মতে, উন্নত অ্যালগরিদম ও AI-ভিত্তিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতের সামরিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই একাধিক বিমানকে একটি সমন্বিত শক্তি হিসেবে পরিচালনার ধারণা নিয়ে কাজ করছে তাঁদের সংস্থা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘FWD Supreme Lite’ সেই ভাবনাকে বাস্তব বিমান প্রযুক্তির রূপ দেওয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন: TET নিয়ে বড় স্বস্তির ইঙ্গিত! ২০১০-এর আগে নিয়োগ শিক্ষকদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত
সংস্থার দাবি, বিশ্বজুড়ে যখন AI-নির্ভর এবং স্বয়ংক্রিয় সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা দ্রুত এগোচ্ছে, তখন ভারতও (India) এই পরিবর্তনের অংশ হতে চাইছে। ‘FWD Supreme Lite’-কে সেই বৃহত্তর লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধপ্রযুক্তি নিয়ে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ভরযোগ্যতার মতো বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে এই বিমান ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হয়ে ওঠে, সেদিকেই এখন নজর প্রতিরক্ষা মহলের।













