বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) ভর্ৎসনার মুখে পড়ল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) তথা ইডি সহ কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের একটি মামলার শুনানির সময় লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের প্রসঙ্গ ওঠে। সেই সময়ই তদন্তের গতি নিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ভর্ৎসনার মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সুপ্রিম কোর্টে যা হল… | (Supreme Court)
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে সুমিতের একটি কেসে আগাম জামিন মামলা উঠেছিল। শুনানির সময় সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ কোটি টাকা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের মতো একটি ‘দাগি’ সংস্থার অ্যাকাউন্টে এসেছে। এরপরেই বিচারপতি বাগচীর ভর্ৎসনার মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
আরও পড়ুনঃ ‘যাঁরা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনা পাননি, তাঁরা দ্রুত..,’ যোগ্যদের টাকা দিতে বড় উদ্যোগ মন্ত্রী শংকরের
বিচারপতি বলেন, “লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের প্রসঙ্গ যত কম টানা যায় তত আপনাদের জন্য ভালো। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের কেসে তদন্তের ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থা বরাবর গড়িমসি করেছে। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের একের পর এক বিচারক একাধিকবার নানা নির্দেশ দিয়েছেন। তবে হেফাজতে নিয়ে জেরার ক্ষেত্রে কখনও কেন্দ্রীয় এজেন্সির সদিচ্ছা দেখা যায়নি।“
বিচারপতি বাগচী আরও বলেন, এই ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থা কখনও অদ্ভুতভাবে শ্লথ, আবার কখনও সময়ে সময়ে অতি তৎপর হয়ে ওঠে। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে সর্বদা একটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সুমিতের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ দাবি করেন, এগারো দিনে দিনভর জেরা করা হলেও যে বিষয় নিয়ে অভিযোগ সেই বিষয়ে একবারও প্রশ্ন করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে।
সেই দাবির পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে সলিসিটর জেনারেল বলেন, সুমিতকে সব প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা হয়েছে। তার প্রমাণ আছে। আদালতে সব জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তুষার মেহতা আরও বলেন, “দেখা যাচ্ছে ১০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। তবে এটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। অন্য কোথাও নগদ কালো টাকা রাখা আছে। সম্প্রতি অন্য অ্যাকাউন্টে দু’কোটি টাকা জমা পড়েছে।“

এদিনের শুনানি শেষে জিজ্ঞাসাবাদের ট্রান্সক্রিপ্ট চায় শীর্ষ আদালত। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
রাজ্যে পালাবদলের কিছু সময় পরেই সংবাদের শিরোনামে উঠে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। এদিন তাঁর একটি কেসে আগাম জামিন মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে ইডি সহ কেন্দ্রীয় এজেন্সি।













