বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ, বকেয়া ডিএ নিয়ে জোর চর্চা আলোচনা চলছে। এর মাঝেই এক প্রয়াত রাজ্য সরকারি কর্মীর মেয়ের মামলায় বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। রাজ্যের যুক্তি খারিজ করে আগামী ১৬ সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারীকে বকেয়া পেনশন (Pension) মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
৪২ বছরের টানাপড়েনে ইতি টানল হাইকোর্ট | (Calcutta High Court)
মামলার বিবরণ অনুসারে, দমদম গোরাবাজার নিবাসী মামলাকারী মিনু দাসের বাবা পরেশচন্দ্র দাস পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি অবসর নেন। ১৯৮৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর নিয়ম অনুসারে অবিবাহিতা কন্যা হিসেবে পারিবারিক পেনশনের দাবিতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের দ্বারস্থ হন মিনু। তবে কোনও সুরাহা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ গ্রামবাংলার ঐতিহ্য চেনাতে স্কুলে ‘তাল উৎসব’! মিড ডে মিলে এলাহি আয়োজনে দিলখুশ পড়ুয়াদের
এরপর ২০১৯ সালে বাবা পরেশচন্দ্র দাসের তৎকালীন স্কুল থেকে চাকরি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়ার পর সেগুলি জমা দিয়েছিলেন মিনু। তবে এরপরেও পেনশনের ফাইল না এগোনোয় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এবার সেই মামলাতেই প্রয়াত রাজ্য সরকারি কর্মী পরেশচন্দ্রের অবিবাহিতা কন্যা মিনুকে পারিবারিক পেনশন দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সিনহা।
এই মামলায় মামলাকারীর আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, অবিবাহিতা, বিবাহবিচ্ছিনা বা বিধবা কন্যাদের পারিবারিক পেনশন পাওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে। পাল্টা রাজ্য সরকারের দাবি ছিল, ডেথ অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট স্কিম, ১৯৮১ চালু হওয়ার আগেই ওই শিক্ষক অবসর নিয়েছিলেন। সেই কারণে এই পেনশন প্রযোজ্য নয়। যদিও সেই যুক্তি খারিজ করে দেয় আদালত।
এই বিষয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, নির্ধারিত সময়সীমার অজুহাত দেখিয়ে সরকার এই অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করতে পারে না। বিচারপতি সিনহা স্পষ্ট জানান, কোনও রাজ্য সরকারি কর্মচারী ১৯৮১ সালের প্রকল্পের আগে অবসর নিলে বা মারা গেলেও তাঁর অবিবাহিতা বা বিধবা কন্যা পারিবারিক পেনশনের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।

এরপরেই আগামী ১৬ সপ্তাহের মধ্যে মিনুকে বকেয়া পেনশন মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, এই ধরণের অন্যান্য বকেয়া মামলার ক্ষেত্রেও এই রায়কে নজির হিসেবে দেখে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে পেনশন নিয়ে মিনুর দীর্ঘ ৪২ বছরের টানাপড়েনে ইতি পড়তে চলেছে। পাশাপাশি এই ধরণের আরও মামলার ক্ষেত্রে পারিবারিক পেনশন পাওয়ার পথও সুগম হবে বলে মনে করছেন অনেকে।













