বাংলা হান্ট ডেস্ক: ফের বড়সড় কর্মী ছাঁটাইয়ের (Mass Layoffs) পথে নামী এক সংস্থা। এবার প্রায় ৩৩০০ কর্মীর ছাঁটাই করতে চলেছে উবের (Uber)। এদিন এমনটাই জানিয়েছেন উবেরের সিইও দারা খোসরোশাহি। কর্মীদের পাঠানো একটি ইমেলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সংস্থার কাজকর্মকে আরও সহজ ও কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, বিশেষ করে চালকহীন গাড়ি ও রোবোট্যাক্সির মতো পরিষেবায় বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। চলতি বছরের শুরুতেও উবেরের গ্রাহক পরিষেবা ও মানবসম্পদ বিভাগে কর্মী কমানো হয়েছিল। তবে সেই ছাঁটাইয়ের পরিমাণ সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তুলনায় অনেকটাই কম ছিল। নতুন করে ৩৩০০ জনের চাকরি চলে গেলে উবেরের মোট কর্মীসংখ্যা ৩০ হাজারের সামান্য নীচে নেমে আসবে, যা প্রায় ২০২১ সালের স্তরের কাছাকাছি।
৩,৩০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে উবের (Uber):
কর্মী কমানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খোসরোশাহি সংস্থার গত কয়েক বছরের বিস্তারের দিকটি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, গত পাঁচ বছরে উবের দ্রুত নিজেদের পরিষেবা ও ব্যবসার পরিধি বাড়িয়েছে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম এবং সাংগঠনিক কাঠামোও ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। ব্যবসার আকার যখন তুলনামূলক ছোট ছিল, তখন যে ধরনের কাঠামো কার্যকর বলে মনে হয়েছিল, এখন বিশাল পরিসরের সংস্থায় তার অনেকটাই আর প্রয়োজন নেই। তাই সংস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই এক বা দু’জন কর্মী নিয়ে তৈরি ছোট ছোট ‘মাইক্রো টিম’-এর সংখ্যাও প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ শুধু কর্মীসংখ্যা কমানো নয়, উবেরের গোটা কাজের কাঠামোকে আরও সরল করার লক্ষ্য রয়েছে।
আরও পড়ুন: হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১,২২৫! সাহায্যের পরিবর্তে আমেরিকা-ভারত-চিন থেকে ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল
উবেরের দাবি, ছাঁটাইয়ের ফলে যে অর্থ সাশ্রয় হবে, তা কেবল খরচ কমানোর জন্য ব্যবহার করা হবে না। বরং সেই অর্থ সংস্থার ব্যবসার বৃদ্ধি, নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের কাজে লাগানো হবে। চালক, কুরিয়ার এবং ব্যবসায়ীদের জন্য পরিষেবা উন্নত করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহণ ব্যবস্থার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে রোবোট্যাক্সি বা চালকহীন ট্যাক্সি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অংশীদারিত্বে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। ইতিমধ্যেই অ্যাভরাইড, লুসিড, নুরো এবং রিভিয়ানের মতো প্রযুক্তি ও গাড়ি সংস্থার সঙ্গে বিনিয়োগ বা অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তি তৈরি করছে উবের।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে আরও একটি বড় পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট—পরিবহণ শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার। রোবোট্যাক্সি থেকে শুরু করে গ্রাহক পরিষেবা, ব্যবসা পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে অটোমেশন বাড়ছে। ফলে সংস্থাগুলি একদিকে প্রযুক্তিতে বিপুল অর্থ ঢালছে, অন্যদিকে একই ধরনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মীসংখ্যা কমানোর পথেও হাঁটছে। উবেরের ক্ষেত্রেও সেই প্রবণতার প্রভাব রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও সংস্থার পক্ষ থেকে সাংগঠনিক কাঠামো সরল করা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির কথাই প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

উবেরের (Uber) এই সিদ্ধান্ত অবশ্য প্রযুক্তি শিল্পে চলতি বছরের বৃহত্তর কর্মী ছাঁটাইয়ের ধারারই অংশ। মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং মেটার মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও ২০২৬ সালে বিভিন্ন বিভাগে কর্মীসংখ্যা কমিয়েছে। জুলাই মাসে মাইক্রোসফটের মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ২.১ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্তের খবর সামনে এসেছিল। প্রযুক্তি সংস্থাগুলির এই ছাঁটাইয়ের নেপথ্যে খরচ কমানোর পাশাপাশি এআই-নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগের পুনর্বিন্যাসও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। উবেরের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে, মানবসম্পদের একটি অংশ কমিয়ে সেই অর্থ ও পরিকাঠামোকে আরও বেশি করে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে চাইছে সংস্থা।













