বাংলা হান্ট ডেস্কঃ লাগাতার বৃষ্টির জেরে ফারাক্কার কাছে রেললাইনে ধস নেমেছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। কলকাতা, মালদহ ও শিলিগুড়ির মধ্যে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে উত্তরবঙ্গ রুটে বাড়তি সরকারি বাস (North Bengal Bus) নামাল রাজ্য পরিবহণ দফতর (West Bengal Transport Department)।
কোন কোন রুটে বাড়তি বাস চলবে? | (North Bengal Bus)
উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পথে যাওয়া আসার জন্য বাস পেতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বহু যাত্রী। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা-শিলিগুড়ি, কলকাতা-বালুরঘাট, মালদহ-কলকাতা সহ বেশ কয়েকটি রুটে বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে পরিবহণ দফতর।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যের সব স্কুলের ইউনিফর্মে সাময়িক বদল করা হোক! বিশেষ কারণে বড় পরামর্শ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
শুক্রবার কলকাতা-শিলিগুড়ি রুটে নতুন করে ২৩টি অতিরিক্ত বাস নামানো হয়েছে। সেই সঙ্গেই মালদহ অবধি চলত এমন একটি বাসের পরিষেবা শিলিগুড়ি অবধি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিলিগুড়ি-কলকাতা রুটেও বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ এই রুটে ১৮টি বাস ছাড়ছে, এর মধ্যে ১২টিই অতিরিক্ত বাস।
এছাড়া মালদহ-কলকাতা রুটে ৫টি অতিরিক্ত বাস ও কলকাতা-বালুরঘাট রুটে ২টি অতিরিক্ত বাস বরাদ্দ করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই দুর্গাপুর-বালুরঘাট রুটেও অতিরিক্ত ২টি বাস নামিয়েছে রাজ্য পরিবহণ দফতর।
বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দিতে চান, এমন যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ সান্ধ্যকালীন বাস পরিষেবাও চালু করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টা, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা, সাড়ে ৭টা, রাত সাড়ে ৮টা, ৯টা ও সাড়ে ৯টায় বাস পরিষেবা থাকছে। কলকাতার নিউ এসপ্ল্যানেড বাস টার্মিনাস থেকে শিলিগুড়ির এনজেপি বাস টার্মিনাস অবধি এই বিশেষ সান্ধ্যকালীন বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে।
রাজ্য পরিবহণ দফতরের তরফে এনবিএসটিসি ও এসবিএসটিসির পরিচালক পরিচালকদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রেল স্টেশন ও বাস টার্মিনাসে যাত্রীদের ভিড় ও চাহিদার উপর ভিত্তি করে যেন সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন অনুসারে আরও অতিরিক্ত বাসের বন্দোবস্ত করা হয়। সেই সঙ্গেই এই জরুরি পরিস্থিতির সুযোগে বেসরকারি বাস চালক বা মালিকরা যাতে অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে পারেন, সেটা সুনিশ্চিত করতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিবহণ দফতরের তরফে আরও জানানো হয়েছে, সরকারি বাস দিয়েও ভিড় সামাল না দেওয়া গেলে আপতকালীন ভিত্তিতে বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ করা হতে পারে। সম্পূর্ণ পরিস্থিতির দিকে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে।
গতকাল ফারাক্কার কাছে রেললাইনে আচমকা ধস নামায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সমস্যা কমাতে বাড়তি সরকারি বাস নামাল পরিবহণ দফতর। এর ফলে অনেকের সুরাহা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।













