খাবারের হাল দেখে চোখ কপালে! এই নামি রেস্তোরাঁগুলির লাইসেন্স সাসপেন্ড

Published on:

Published on:

irregularities found at this famous restaurants in West Bengal
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : খাবারের মান নিয়ে রাজ্যজুড়ে (West Bengal) শুরু হওয়া অভিযানে এবার সামনে এল বড়সড় অনিয়মের ছবি। রাজ্যের বহু রেস্তরাঁয় (Restaurants) পরিদর্শন চালিয়ে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা এমন বেশ কিছু গরমিলের হদিশ পেয়েছেন, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোথাও পচা মাংস ব্যবহারের অভিযোগ, আবার কোথাও উদ্ধার হয়েছে ভেজাল কিংবা মেয়াদ-উত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী। পানীয় জলের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে।

পশ্চিমবঙ্গের কোন রেস্তোরাঁর (Restaurants) লাইসেন্স বাতিল ?

রাজ্যজুড়ে খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলিতে অভিযানের পর বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ১৩টি ফুড প্রসেসিং ইউনিটের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি নামী রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড বা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি জলের কারখানাও রয়েছে, যেগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ১৭৩০টি ফুড সেন্টারে পৌঁছে পরিদর্শন করা হয়েছে। সেই পরীক্ষায় ১৫২৫টি জায়গাতেই কোনও না কোনও অনিয়ম ধরা পড়েছে। সবচেয়ে বেশি অনিয়মের ছবি উঠে এসেছে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। নিয়মভঙ্গের অভিযোগে যে পাঁচটি রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মধ্যমগ্রামের রঙ দে বসন্তি ধাবা। এছাড়াও রয়েছে সেক্টর ফাইভের আরডিবি মলের ‘অ্যাবসিলিউট বারবিকিউ নেশন’, মধ্যমগ্রামের ‘জাস্ট বাঙালি’, সোদপুরের ‘বারবিকিউ নেশন’ এবং সেক্টর থ্রি-র ‘চৌরাসিয়া চাটস’।

তবে অভিযানে অনিয়ম মিললেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা গুটিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটছে না সরকার। সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, “সময় দেওয়া হয়েছে ঠিক করে নেওয়ার। এরকম নয় যে গেলাম আর ঝাঁপ বন্ধ করে দিলাম। সবাই ব্যবসা করছে। অনেক লোকের রুটি-রুজি চলে। অনেকের উনুন এই ব্যবসার জন্যই চলে।”

irregularities found at this famous restaurants in West Bengal

আরও পড়ুন : আরজি কর কাণ্ডে কে প্রথম দেখেছিলেন তিলোত্তমাকে? নাম বলে দিলেন মা রত্না

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২১৫টি দোকানে অনিয়মের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে ১২৯টি এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ১২৮টি দোকান রয়েছে সেই তালিকায়। কলকাতায় ৯৬টি প্রতিষ্ঠানে নিয়মভঙ্গের তথ্য সামনে এসেছে। এছাড়া কোচবিহারে ৮৩টি, বসিরহাটে ৭৭টি, পশ্চিম বর্ধমানে ৬৫টি, নদিয়ায় ৬০টি এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৫১টি দোকানে অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। পরিদর্শনের এই রিপোর্ট সামনে আসার পর খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে নজরদারি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়ম ভাঙলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।