বাংলা হান্ট ডেস্ক: শিক্ষক দিবসে বাবাকে স্মরণ করে আবেগে ভাসলেন ‘ক্রিকেটের ঈশ্বর’ সচিন তেন্ডুলকার (Sachin Tendulkar)। শিক্ষক দিবসে তিনি তাঁর বাবা রমেশ তেন্ডুলকারকে (Ramesh Tendulkar) তাঁর প্রথম মেন্টর ও গাইড হিসাবে বিবেচিত করেন এবং বলেন, তিনিই প্রথম ক্রিকেটের (Cricket) প্রতি ভালোবাসা উপলব্ধি করিয়েছিলেন। সচিন বলেন, ‘তিনি আমাকে এই খেলায় কেরিয়ার গড়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।’ এই আবহে সচিন একটি বড় পদক্ষেপও গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর হেলথকেয়ার পার্টনার ইঙ্গা হেলথ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘প্রফেসর রমেশ তেন্ডুলকার মেমোরিয়াল ফেলোশিপ’ চালু করছেন।
শিক্ষক দিবসে বাবাকে স্মরণ করে আবেগে ভাসলেন সচিন তেন্ডুলকার (Sachin Tendulkar)!
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবার সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে সচিন লিখেছেন, ‘যাঁরা আমার পথচলা গড়ে তুলেছেন, তাঁদের কথা ভাবলে আমার মনে ক্রিকেট মাঠ বা কোচের কথা আসে না। এর শুরুটা হয় বাড়ি থেকে। যখন আমি আর কাউকে চিনতাম না, তখন আমার বাবা ক্রিকেটের প্রতি আমার ভালোবাসাটা বুঝতে পেরেছিলেন এবং সম্ভবত তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে এটা আমার কাছে কী অর্থ বহন করে। তিনি জানতেন না আমি ক্রিকেটে কত বড় হব, কিন্তু তিনি আমাকে এটি চালিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।’
সচিন আরও লিখেছেন, ‘আমার বাবা, রমেশ তেন্ডুলকার, ছিলেন একজন লেখক, কবি এবং অধ্যাপক; কিন্তু তাঁর চেয়েও বড় কথা, তিনি আমার এবং আরও অনেকের কাছে একজন মেন্টর ও গাইড ছিলেন। তিনি আমাকে ক্রিকেট খেলার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, আবার এও মনে করিয়ে দিতেন যে সাফল্য যেন কখনও চরিত্রের বিনিময়ে না আসে। ছোটবেলায় বাবা আমাকে যে কথাগুলি বলেছিলেন, তার কিছু কিছু সারাজীবন আমার সঙ্গে থেকে গেছে। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে হেরে যাওয়াটা ঠিক আছে, কিন্তু প্রতারণা করা ঠিক নয়। কখনও শর্টকাট নিও না। আমি তো কেবলই এক বালক ছিলাম যে ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসত। আমার বাবা আমার মধ্যে অন্য কিছু দেখেছিলেন। আমি কী হব, তা তিনি ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করেননি। বরং, তিনি আমাকে তা নিজে থেকে আবিষ্কার করার জন্য সুযোগ ও সমর্থন দিয়েছিলেন। অনেক দিক থেকেই, একজন মহান শিক্ষক বা পরামর্শদাতা ঠিক এটাই করেন। তাঁরা আপনার মধ্যে এমন সম্ভাবনা দেখতে পান, যা আপনি নিজে চিনতে পারেন না।
সচিন বলেন, ‘ভারতে তরুণ প্রতিভার কোনও অভাব নেই। একটি শিশু ব্যাট, বল বা বই হাতে তুলে নিক, কিংবা অন্য কোনও ক্ষেত্রে নিজের সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করুক, তা তাকে নিজস্ব উপায়ে বিশেষ করে তোলে। প্রায়শই, তাদের প্রতিভার অভাব থাকে না, বরং এমন মানুষদের সান্নিধ্যের অভাব থাকে যাঁরা সেই প্রতিভা চিনতে এবং তাকে বিকশিত করতে সাহায্য করতে পারেন। এই ভাবনাটিই ছিল অঞ্জলি এবং আমার শুরু করা ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠার মূল কারণ। ভারতজুড়ে এমন অনেক শিশু আছে যাদের মধ্যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে; কিন্তু প্রশিক্ষক, পরামর্শদাতা, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ বা মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অভাবে তারা হয়তো কখনোই সেই সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পায় না। আমাদের লক্ষ্য হল তাদের খেলাধুলা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সমান সুযোগ করে দেওয়া এবং তারাও যে সফল হতে পারে, তা প্রমাণ করার সুযোগ করে দেওয়া।’
আরও পড়ুন: ম্যাচ চলাকালীন আচমকাই গাঁজার গন্ধ! আম্পায়ারের কাছে অভিযোগ তারকা খেলোয়াড়ের, তারপরে যা হল…
‘অধ্যাপক রমেশ তেন্ডুলকার মেমোরিয়াল ফেলোশিপ’: সচিন জানিয়েছেন, ‘আমার বাবা সারা জীবন শিক্ষক হিসাবে কাটিয়েছেন, এবং আমি মনে করি তিনি আমাকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষাটি দিয়েছেন তা হল, কাউকে তার নিজের সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করার জন্য আত্মবিশ্বাস ও সুযোগ দেওয়ার গুরুত্ব। এই শিক্ষক দিবসে, আমরা সেই প্রথম মানুষটিকে সম্মান জানানোর এই সুযোগটি নিচ্ছি, যিনি আমার মধ্যে কিছু একটা দেখেছিলেন এবং আমি কী হতে পারি তার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। আমাদের দীর্ঘদিনের হেলথকেয়ার পার্টনার, ইঙ্গা হেলথ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘প্রফেসর রমেশ তেন্ডুলকর মেমোরিয়াল ফেলোশিপ’ চালু করতে পেরে আমরা গর্বিত।’
আরও পড়ুন: দূরপাল্লার সফর হবে আরও আরামদায়ক! তৈরি হচ্ছে ২৬০ টি বন্দে ভারত স্লিপার, বড় পদক্ষেপ রেলের
আর কী জানিয়েছেন সচিন: তিনি আরও লিখেছেন, ‘প্রতি বছর একজন এমডি (ডক্টর অফ মেডিসিন) শ্রীনগরে ক্লেফট ও ক্র্যানিওফেসিয়াল কেয়ারে স্পেশালাইজেশন অর্জনের জন্য এক বছরের সুযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা পাবেন। প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করার পর, তিনি অসামান্য পারদর্শিতার জন্য সচিন তেন্ডুলকার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একটি সার্টিফিকেট পাবেন। ক্রিটিক্যাল কেয়ারে হেলথকেয়ার প্রফেশনালদের সহায়তা করা এবং তরুণ ডাক্তারদের তাদের অধ্যয়নের ক্ষেত্রে উৎসাহিত করার জন্য আমাদের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতির এটি একটি অংশ। আমার কাছে এটি শুধু একটি ফেলোশিপের চেয়েও বেশি কিছু। এটি আমার বাবার গভীর বিশ্বাসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি উপায়: যে শিক্ষা সুযোগ সৃষ্টি করে, এবং সেই সুযোগগুলি তখনই প্রকৃত অর্থবহ হয়ে ওঠে যখন তা অন্যের সেবায় ব্যবহৃত হয়।’ সচিন তাঁর পোস্টটির শেষ দিকে জানিয়েছেন, ‘আমার বাবা আমাকে নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন। তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন অন্যদের শিক্ষা দেওয়া ও পথ দেখানোর জন্য, এবং আমি আশা করি আমরাও অন্যদের জন্য সম্ভাবনার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারব. যা শিশু ও তরুণদের নিজেদের সম্ভাবনা আবিষ্কার করার সুযোগ দেবে এবং তা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাবে। একজন শিক্ষকের শিক্ষাদান হয়তো একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে শুরু হয়, কিন্তু এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে—এক জীবন থেকে আরেক জীবনে, এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে।’ স্বাভাবিকভাবে সচিনের এই পদক্ষেপ এবং পোস্ট মন জয় করে নিয়েছে অনুরাগীদের।













