বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শনিবার ৫ই সেপ্টেম্বর সারা দেশব্যাপী ধুমধাম করে পালন করা হয়েছে শিক্ষক দিবস (Teachers’ Day)। এদিন সেই একই দৃশ্য ধরা পড়েছে কলকাতার বুকেও। রাজ্য সরকারের তরফে এদিন বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে একটি জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই এদিন বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একইসাথে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ সহ আরও একাধিক বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগে নাম না করেই বিঁধলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে।
শিক্ষক দিবসে কম্পোজিট গ্র্যান্ড নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বিগত দিনে তৃণমূল সরকারের তরফে কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হতে দেখা গিয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। অথচ এদিন সেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেই কম্পোজিট গ্রান্ট নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার অভিযোগ, ‘আপনি ভাবতে পারেন কলকাতার উপকন্ঠে মিত্র ইনস্টিটিউশনে সাপের কামড়ে বাচ্চাকে এসএসকেএম হসপিটালে যেতে হয়। কারণ জানেন? কারণ আপনারা তিন বছর কম্পোজিট গ্র্যান্ট পাননি।”
একইসাথে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “খুব সামান্য টাকা কেউ তিরিশ হাজার, কেউ ১ লক্ষ টাকা বছরে পান বড় জোর। কিছুই না, এটা দিয়ে কার্বলিক অ্যাসিড কেনা হয়, ব্লিচিং, ফিনাইল কেনা হয়। এই টাকা একটা সরকার চলে গেল তিন বছর কম্পোজিট ফান্ডের টাকা দেয়নি। টাকার তো কোনো অভাব ছিল না। খেলা-মেলা, দুর্গাপুজায় চাঁদা দেওয়া, ইমাম মোয়াজ্জেম ভাতা দেওয়া এগুলোয় তো কোনো অভাব আমরা দেখতে পাইনি। স্কুলের কম্পোজিট গ্রান্টের টাকা তিন বছর দেওয়া হয়নি।’
আরও পড়ুনঃ লাফিয়ে কমল চিনির দাম! তবুও, কেন মিলছে না সস্তায়? নেপথ্যে রয়েছে এই কারণ
মুখ্যমন্ত্রীর দাবী, ‘আমরা এসে ৩০০ কোটি টাকা কম্পোজিট গ্রান্ট দিয়েছি। ভাগে পড়েছে হয়তো ৩০-৪০ হাজার টাকা। এটা খুবই দরকার,খুবই এসেনশিয়াল। একটা জলের পট ফেটে গেলে তা কিনতে হয়, সামান্য টাকা। এখান থেকে আপনারা খরচ করেন এগুলো সরকারকে ভাবতে হবে। আমি শিক্ষক দিবস করলাম দু হাজার শিক্ষকরা এলেন, ছাত্ররা এলেন, হৈ হৈ হল, বক্তৃতা হল,হাততালি হল, ছবি উঠল, সোশ্যাল মিডিয়া হল, প্রিন্ট মিডিয়া হল, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হল, ভাষণ হল, লম্বা লেকচার হল কাজ কী হল? ইট ফর শুন্য।’
এছাড়াও এসএসসি সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণা নিয়েও এদিন বড় মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে বললেন, “আপনারা কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন যে এই সরকার স্কুল সার্ভিস কমিশনে এই ধরনের স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ করবে?
পাশাপাশি, সম্প্রতি সরকারি ঘোষণা নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। বলেন, “কখনও ভেবে ছিলেন এসএসসি চেয়ারম্যান হবে এসিএস পদমর্যাদার কোন আধিকারিক? এখন মহারাজদেরও শিক্ষাব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রামকৃষ্ণ মিশনে বিদ্যালয়গুলির, যাঁরা পরিচালনা করেন, সেই মহারাজরা খারাপ কিছু করতে পারেন বিশ্বাস করেন? যিনি সব ত্যাগ করে এসেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের হাতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টা ছেড়ে দিয়েছেন।”
আরও পড়ুনঃ নারী সুরক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ! সরকারি-বেসরকারি বাসের কন্ডাক্টরদের বিরাট ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রীর
শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে রাজ্যবাসীকে আরও একবার আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বললেন, ‘আমরা শিক্ষক নিয়োগ করে দেব নিশ্চিন্তে থাকুন। সুপ্রিম কোর্টর নির্দেশ, হাইকোর্টের নির্দেশ মাথায় রেখে করে দেব। কোনও অন্যায় হবে না। আমরা ইতিমধ্যেই বিধানসভায় ওবিসি বিল পরিবর্তন করে দিয়েছি। অন্যায়ভাবে যাদের ওবিসি করা হয়েছিল, তাঁদের বাদ দিয়ে দিয়েছি। ৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট খোলার পরে আমরা কোর্ট থেকে এক্সিট নিয়ে নিয়েছি। এসএসসি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আমি বলেছি, মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়ে নিয়োগ হয় না। তালিকা প্রকাশ করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও পরীক্ষাই একমাত্র বিচার্য বিষয় হবে। অন্য কিছু দরকার নেই।”













