বাংলা হান্ট ডেস্ক : নিউ ইয়র্ক থেকে লন্ডন, দুবাই থেকে সিডনি—বিশ্বের বড় বড় শহরে এবার বাংলার দুর্গাপুজোর ছবি তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে বিশাল প্রচার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে রাজ্যের পর্যটন দফতর।
ইনফ্লুয়েন্সদের দিয়ে দুর্গাপুজোর প্রচারের পরিকল্পনা সরকারের (West Bengal Government)
বিদেশের মাটিতে বসেই যাতে বাংলার পুজোর স্বাদ পাওয়া যায়, সেই মতো প্রচারের জায়গাও বেছে নেওয়া হচ্ছে। টাইমস স্কোয়ার, বুর্জ খলিফা এবং পিকাডিলি লাইটসের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত স্থান যেমন থাকছে, তেমনই সিডনি ও জাপানের বিমানবন্দরগুলিকেও প্রচারের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রচারকে স্থানীয় স্তরে পৌঁছে দিতে বিদেশে থাকা বাঙালি সংগঠনগুলিকেও যুক্ত করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্তত ১০টি দেশের ২৫টি বাঙালি সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের দর্শকের কাছে স্থানীয় ভাষা ও দর্শকের ধরন অনুযায়ী প্রচারসামগ্রী তৈরির ভাবনা নেওয়া হয়েছে। সেই কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী বিজ্ঞাপন ও ভিডিও আলাদা করে তৈরি করা হবে।
উল্লেখ্য, পুরো প্রচার অভিযানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়া। পর্যটন দফতরের পরিকল্পনায় প্রায় ২,৬০০ জন ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে যুক্ত করার কথা রয়েছে এই পরিকল্পনায়। তবে শুধুমাত্র ফলোয়ার সংখ্যা দেখেই তাঁদের বেছে নেওয়া হবে না। কোন ক্ষেত্রে তাঁরা কনটেন্ট তৈরি করেন, কত মানুষের কাছে তাঁদের পৌঁছনোর ক্ষমতা রয়েছে এবং তাঁদের ভিডিও কতটা দেখা হয়—এসবও নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
প্রসঙ্গত, এই প্রচারে যুক্ত হওয়ার জন্য একজন ইনফ্লুয়েন্সার-এর অন্তত ১০ লক্ষ ফলোয়ার থাকা প্রয়োজন। বিদেশে বসবাসকারী বাঙালি ক্রিয়েটরসদের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিপুল ডিজিটাল প্রচারের জন্য বিভিন্ন সোশ্যাল ও ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে প্রায় ২০০ কোটি ভিউস অর্জন করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এত বড় আকারের আন্তর্জাতিক প্রচার পেশাদারভাবে পরিচালনার জন্য একটি অভিজ্ঞ সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন :‘যোগ্য’ হয়েও এখনও অন্নপূর্ণা যোজনা পাননি? ৩০০০ টাকা পেতে যোগাযোগ করুন এই নম্বরে
ইতিমধ্যেই, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি বাংলার দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছে। বিদেশে বসবাসকারী বাঙালির নস্টালজিয়াকে কেন্দ্র করে প্রচার চালানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটককেও এই উৎসবের সঙ্গে পরিচিত করানোর চেষ্টা চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুজো বাংলার পর্যটন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম আন্তর্জাতিক মুখ হিসেবে ফুটে উঠবে।













