বেসরকারিকরণের পথে ISRO? রাখঢাক না রেখে বড় বার্তা দিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা

Published on:

Published on:

Authorities outright dismiss speculation regarding the privatization of ISRO.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: চন্দ্রযান থেকে মঙ্গলযান—মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক সাফল্যের মধ্যে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছিল নতুন উদ্বেগ। বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য দেশের (India) মহাকাশ ক্ষেত্রের দরজা কয়েক বছর আগেই খুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠছিল, এর ফলে ইসরোর ভূমিকা কি ধীরে ধীরে কমবে? মহাকাশযান তৈরি ও উৎক্ষেপণ থেকে গবেষণা—আগের মতোই কি সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে ইসরো? এমন একাধিক প্রশ্ন তুলে সংস্থার চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে চিঠি দিয়েছিল ইসরোর কর্মীদের ন’টি সংগঠন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি ক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ শেষ পর্যন্ত সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও কর্মীদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসরোর (ISRO) বেসরকারিকরণের জল্পনা সরাসরি খারিজ কর্তৃপক্ষের:

কর্মী সংগঠনগুলির এই উদ্বেগের মধ্যেই রবিবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল ইসরো (ISRO)। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ইসরোকে বেসরকারিকরণের কোনও প্রশ্নই নেই। বরং মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশগ্রহণকে ইসরোর বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেই জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংস্থার বক্তব্য, ইসরোর গুরুত্ব বা দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে কর্মীদের মধ্যে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইসরোর এই বার্তা মূলত বোঝাতে চেয়েছে, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়লেও তার অর্থ সরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটিকে সরিয়ে দেওয়া নয়।

আরও পড়ুন: কালীঘাটে ফেরার দরজা কি খুলছে? ঋতব্রত-তৃণমূল ও NCPI নিয়ে বড় ইঙ্গিত কুণালের

ইসরোর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজের পরিধি এখন আগের তুলনায় অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের জটিল এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর মিশনগুলিতে আরও বেশি করে নিজেদের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবে ইসরো। অন্যদিকে, ইতিমধ্যে তৈরি এবং পরীক্ষিত প্রযুক্তির বড় আকারে উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের দায়িত্ব নিতে পারে বেসরকারি শিল্প। অর্থাৎ গবেষণা ও উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তিকে বাজারে নিয়ে যাওয়ার কাজেও বেসরকারি ক্ষেত্রকে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। ইসরোর মতে, এর ফলে কাজের ভাগাভাগি হবে এবং দেশের মহাকাশ পরিকাঠামো আরও বড় আকারে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সংস্থার ভূমিকা কমছে না, বরং ভারতের সামগ্রিক মহাকাশ ব্যবস্থার কাঠামোই নতুনভাবে তৈরি হচ্ছে।

তবে এই আশ্বাসের প্রয়োজন কেন পড়ল, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একশোরও বেশি বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়র ইসরো ছেড়েছেন বলে দাবি উঠেছে। তাঁদের মধ্যে অনেকের চলে যাওয়ার পিছনে বেসরকারিকরণ ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাকেও কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের একাধিক বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে ইসরোর সহযোগিতা ইতিমধ্যেই বেড়েছে। রকেট, উপগ্রহ, উৎক্ষেপণ পরিষেবা এবং মহাকাশ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নতুন সংস্থা কাজ শুরু করায় ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির ছবিও বদলাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই, এই পরিবর্তনের মধ্যে সরকারি মহাকাশ গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।

Authorities outright dismiss speculation regarding the privatization of ISRO.
ISRO চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন

আরও পড়ুন:ব্যারাকপুর থেকে পুরী, বেনারস, বৃন্দাবন—কবে থেকে ছুটবে বাস? বড় খবর দিলেন অর্জুন সিং

আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার মঞ্চে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইসরোর ভূমিকা যে এখনও গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। চন্দ্রযান ও মঙ্গলযানের মতো অভিযানের সাফল্য ভারতের মহাকাশ গবেষণাকে বিশ্বমঞ্চে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এবার বেসরকারি ক্ষেত্রের দ্রুত বিস্তারের মধ্যেও সেই নেতৃত্ব ধরে রাখাই ইসরোর (ISRO) সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বেসরকারি সংস্থাগুলি মূলত মহাকাশ প্রযুক্তির উৎপাদন, বাণিজ্যিকীকরণ ও নতুন পরিষেবা তৈরিতে আরও বেশি ভূমিকা নেবে, আর ইসরো নিজেদের মন দেবে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যতের জটিল মহাকাশ অভিযানে। ফলে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লেও ইসরোকে বেসরকারিকরণ করা হবে না—এই বার্তাই আপাতত স্পষ্ট করে দিল সংস্থা।