‘অনেক হয়েছে’! অভিষেকের পর বিরুদ্ধে পরপর মামলা, এবার বিরক্তি প্রকাশ হাইকোর্টের

Published on:

Published on:

Calcutta High Court annoyed over hearing several cases against Abhishek Banerjee
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও এফআইআর হয়েছে। এবার এই নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। গত মে মাস থেকে একই ধরণের অভিযোগ শুনে শুনে ক্লান্ত, পর্যবেক্ষণ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের। এই নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন তিনি।

‘এনাফ ইজ এনাফ’: কলকাতা হাইকোর্ট | (Calcutta High Court)

বর্তমানে হাইকোর্টে অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল সেবাশ্রয় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিজেপির অভিজিৎ দাস ববি এই অভিযোগ এনেছেন। গত ৪ ও ১১ জুলাই একই অভিযোগে সেবাশ্রয় নিয়ে এফআইআর হয়। দাবি করা হয়েছে, কোনও মেডিক্যাল স্ট্যাটুটারি বোর্ডের অনুমতি নেওয়া হয়নি। সোমবার মূলত সেই মামলার শুনানির সময়ই বিরক্তি প্রকাশ করে আদালত।

আরও পড়ুনঃ মাসে ৩০০০ টাকা! বিধবা ভাতার বদলে কোন প্রকল্পে নাম লেখাতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “আদালতের নির্দেশ ছাড়া নতুন করে কোনও এফআইআর করবেন না, এবার এমন নির্দেশ দিতে বাধ্য হব। অন্তত তিনটি এমন মামলা দেখেছি ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তি যিনি নিজে পরাজিত হয়েছেন, তিনি অভিযোগ করছেন।“

বিচারপতি এদিন বলেন, “এটা চিকিৎসার গাফিলতির বিষয়। এই নিয়ে ক্লিনিক্যাল কাউন্সিলের কাছে যদি কোনও অভিযোগ করে থাকেন তাহলে আমায় তার নথি দেখান।“

জবাবে অ্যাডিশনাল এজি রাজদীপ মজুমদার বলেন, এক্স-রে মেশিন থেকে শুরু করে সব ধরণের মেশিন লাগাতে গেলে অনুমতি দরকার হয়। তবে এক্ষেত্রে তা নেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “মেডিসিন ড্রাগ কন্ট্রোলার ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে। অভিষেকই হুইসেল ব্লোয়ার।“

এরপরেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “এনাফ ইজ এনাফ। চিকিৎসকও যদি জড়িত থাকেন, তাহলে আইন অনুসারে তাঁকেও রক্ষাকবচ দিতে হবে। এটা বড়জোড় চিকিৎসার গাফিলতি হতে পারে।“

হাইকোর্ট এদিন জানতে চায়, সেবাশ্রয়ের চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কোনও রোগী কি এই নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডে অভিযোগ জানিয়েছেন? পাল্টা অ্যাডিশনাল এজি বলেন, কীভাবে কেউ যাবে? এক বছর আগে কি সেই রকম পরিস্থিতি ছিল?

বিচারপতি বলেন, “যিনি নিজে হেরেছেন, সেই ব্যক্তিই অভিযোগ করছেন।“ একথা শুনে অভিজিৎ দাস ববির আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণের সওয়াল, “হতে পারে উনি পরাজিত হয়েছেন। তার মানে এটা নয় ওর অভিযোগ করার অধিকার নেই। সরকার পরিবর্তন না হলে এগুলো কি সামনে আসত? শুধু একজন না, অনেকেই লুট হয়েছেন। ক্যাম্পের আয়োজন থেকে মেডিক্যাল পড়ুয়াদের দিয়ে কাজ করানো, এগুলো কি আইনত ঠিক?”

সওয়াল শুনে হাইকোর্ট বলে, তদন্তের আগেই কি সরাসরি কাউকে দোষী বলা যায়? বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, এই অভিযোগে তিনি সন্তুষ্ট নন। তবে তদন্ত চলতে পারে।

অন্যদিকে অভিষেকের আইনজীবী শঙ্কর নারায়ণ আবার রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর এফআইআরের রক্ষাকবচের উদাহরণ টেনে আনেন। তাঁর সওয়াল, “একটি রাজনৈতিক দল আগে ভুল করে এফআইআর করেছিল। এখন আরেকটি রাজনৈতিক দলও একই ভুল করছে।“

Calcutta High Court

এদিনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানায়, সেবাশ্রয়ের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের ভিত্তিতে আপাতত কোনও পদক্ষেপ নয়। তবে তদন্তে বাধা নেই, সেটা চলবে। অভিষেককে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। আগামী ২৩ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

রাজ্যে পালাবদলের পর অভিষেকের বিরুদ্ধে বহু বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে অনেক এফআইআরও হয়েছে। এবার এই নিয়েই উষ্মা প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। গত মে মাস থেকে একই ধরণের অভিযোগ শুনতে শুনতে ক্লান্ত, পর্যবেক্ষণ বিচারপতির।