বাংলা হান্ট ডেস্ক : বদলির জন্য দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয় অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের, তা কমাতে এবার উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেবে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। সরকারি কলেজের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও পারস্পরিক বদলির সুযোগকে নিয়মের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক অধ্যাপিকাদের বদলির জন্য নতুন বিল আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ইন্টার ইউনিভার্সিটি ট্রান্সফার বিল আনছে সরকার (West Bengal Government)
কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের বদলির বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পারস্পরিক ট্রান্সফার নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ইন্টার ইউনিভার্সিটি ট্রান্সফারের বিল আনা হচ্ছে। আজ মন্ত্রিসভা পাশ করেছে। রাজ্যপালের অনুমোদন নেওয়া হবে। এটা অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে করা হবে।”
এই ঘোষণার ফলে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পারস্পরিক সম্মতিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, সেই প্রশ্নে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। মন্ত্রিসভা বিলটিতে সায় দেওয়ার পর এখন রাজ্যপালের অনুমোদনই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অনুমোদন মিললেই প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের দিকে এগোবে সরকার।
উল্লেখ্য, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সরকারি কলেজগুলির বদলি ব্যবস্থাতেও ইতিমধ্যে পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এতদিন আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে কাগজপত্রনির্ভর ব্যবস্থা ছিল, তার বদলে এবার প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর। সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হচ্ছে নির্দিষ্ট অনলাইন মডিউল। নতুন পোর্টালের মাধ্যমে সরকারি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, গ্রন্থাগারিক এবং শারীরশিক্ষা প্রশিক্ষকেরা বদলির আবেদন জানাতে পারবেন।
ডিজিটাল ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হতে পারে আবেদন পরবর্তী পর্যায়ে। কোনও আবেদন কোথায় পৌঁছেছে, সেটি কোন ধাপে রয়েছে কিংবা তার বিষয়ে নতুন কোনও সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এসব তথ্য অনলাইনেই দেখা সম্ভব হবে। বদলির সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্রও ডিজিটাল রেকর্ড হিসেবে রাখা হবে।

আরও পড়ুন : দুর্গার ১১ টি হাত বিতর্কে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী, সরকার নিল বড় সিদ্ধান্ত
পুরনো আবেদনের তথ্য খুঁজে বের করা কিংবা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি যাচাই করা তুলনামূলক সহজ হবে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একে অপরের সঙ্গে বদলি করার অর্থাৎ মিউচুয়াল ট্রান্সফারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে সরকারি কলেজের ক্ষেত্রে। নতুন নিয়মগুলি কার্যকর হলে বদলি সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সময়, কাগজপত্র এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটা কমবে বলেই মত প্রশাসনের।













