বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি গুলি ক্ষমতায় আসার পর একে একে পূরণ করছে বিজেপি সরকার। একইভাবে ক্ষমতায় এলে শিক্ষিত বেকারদের ‘যুবশক্তি’ (Banglar Yuva Shakti) প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই যুবসমাজের প্রশ্ন, কবে থেকে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে তিনহাজার টাকা? এই নিয়ে চর্চার মধ্যেই আসছে সুখবর। সব ঠিক থাকলে পুজোর আগেই খুলে যাচ্ছে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের (Yuva Shakti Bharosa Card Scheme) পোর্টাল।
বিজেপি সরকার গঠনের পর বঙ্গে এসেছে ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকল্প (Banglar Yuva Shakti)। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের যুবসাথীর আদলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা, বেকারভাতা প্রদান করা হবে। প্রথম বাজেট থেকে এই প্রকল্প সম্পর্কিত বড় ঘোষণা হয়ে গিয়েছে।
বাংলার শিক্ষিত বেকারদের জন্য যুবশক্তি | Banglar Yuva Shakti
ফেব্রুয়ারী মাসে রাজ্য বাজেট থেকে জানানো হয়েছিল, আগামী অক্টোবর থেকে ‘যুব শক্তি ভরসা কার্ড’ (Yuva Shakti Bharosa Card) চালু হবে রাজ্যে। এর মাধ্যমে স্নাতক বেকারদের মাসে ৩০০০ টাকা এবং যাঁরা নূন্যতম মাধ্যমিক পাশ কিন্তু স্নাতক নন তাঁদের মাসিক ২০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। তবে এক্ষেত্রেও রয়েছে কড়াকড়ি।
আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যোগ্যতামান বাড়ি বাড়ি ঘুরে সমীক্ষা করে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা যাচ্ছে। আপাতত ঠিক হয়েছে, যুবকল্যাণ দপ্তরের হাতেই থাকবে গোটা প্রকল্পের দেখভালের দায়িত্ব। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর আগেই চালু হতে পারে ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের অনলাইন পোর্টাল।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানের যুবশ্রী এবং যুবসাথী প্রকল্পকে একত্রিত করা হবে। সুবিধাও অনেক বেশি মিলবে আগের তুলনায়। উল্লেখ্য, যুবশ্রী এবং যুবসাথী দুই প্রকল্পেই উপভোক্তারা মাসে দেড় হাজার টাকা করে পেতেন। এই প্রকল্পে টাকা পাঠানো হবে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT)-এর মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে।
এই প্রকল্পের জন্য আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ হতে হবে। আবেদনকারীকে হতে হবে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা। এছাড়া উপভোক্তার আধারের সাথে লিঙ্ক করা নিজস্ব একটি সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজে স্পষ্ট করেছেন, যাঁদের পরিবারে মাসে এক লক্ষ টাকার নীচে আয় তাঁরাই শুধুমাত্র এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। যতদিন পর্যন্ত কোনও কর্মহীন যুবক বা যুবতীর কর্মসংস্থান না হচ্ছে, ততদিন সরকার তরফে শিক্ষিত বেকারদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ‘ভরসা কর্মসূচি’ প্রকল্পের জন্য ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ পোর্টাল তৈরি হয়েছে। যেহেতু অক্টোবর থেকে প্রকল্প কার্যকর হবে তাই খুব শীঘ্রই বাকি আবেদন গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পেট্রোলের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানির গাড়িতেই বাড়ছে ভরসা? চমকে দেবে অগাস্টের বিক্রির পরিসংখ্যান
আবেদনকারীদের কী কী নথি লাগবে?
এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য দরকার আবেদনকারীর ছবি, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেইলস, শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র। যদিও সরকারি তরফে এখনও এই বিষয়ে স্পট গাইডলাইন সামনে আসেনি। একাধিক রিপোর্ট বলছে, আবেদনের জন্য প্রয়োজন হতে পারে অরিজিনাল ও প্রভিশনাল ডিগ্রি সার্টিফিকেটও। যা নিতে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে ভিড় করছেন প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা।













