বাংলা হান্ট ডেস্ক : আসন্ন দুর্গাপুজো ঘিরে রাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুজো কমিটিগুলির জন্য বিশেষ অনুদান থেকে বিদ্যুৎ বিল মকুব, অষ্টমীতে মদ বিক্রি বন্ধ রাখা থেকে কলকাতার কয়েকটি রাস্তায় পুজোর অনুমতি না দেওয়া—বৈঠকে উঠে এসেছে একাধিক বিষয়। একইসঙ্গে এবার পুজোর পরের কার্নিভ্যালের পরিবর্তে মহালয়ার দিন ইডেনে বিশেষ কর্মসূচির কথাও জানানো হয়েছে। এর মাঝে পুজোর এক বিজ্ঞাপনকে ঘিরে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কোন বিজ্ঞাপনের জন্য ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ?
উল্লেখ্য, সরকারি একটি বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিতে পড়তে হল সরকারকে। বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত মা দুর্গার ছবিতে দেখা যায় ১০টি হাতের বদলে ১১টি হাত। দুর্গাপুজোর আগে এমন ভুল সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেই দুঃখপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভুলটি যে সরকারের নজরে এসেছে, তা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আজকে একটি ত্রুটিপূর্ণ বিজ্ঞাপন সকালবেলায় বেরিয়েছিল। আমি এরজন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। পরবর্তীকালে সরকার এই বিষয়ে যত্নবান থাকবে।”বিজ্ঞাপনের ভুলকে নিছক ছোটখাটো ত্রুটি হিসেবে এড়িয়ে না গিয়ে তার দায় স্বীকার করেই ক্ষমা চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি প্রচারে এমন ভুল যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা এই ত্রুটিপূর্ণ বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে।” তবে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনার পরেও রাজনৈতিক চাপানউতোর থামেনি। বিজ্ঞাপনের ভুলকে সামনে রেখে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছে বিরোধী দল তৃণমূল।
তৃণমূল দলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিজেপি সরকারের দৃষ্টিতে কি মা দুর্গার এবার ১১টি হাত? একইসঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে,বারবার মা দুর্গা এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষও। সরকারি বিজ্ঞাপনে দুর্গার অতিরিক্ত হাত নিয়ে ব্যঙ্গ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি। লেখেন, “একটা চমৎকার সরকারী বিজ্ঞাপন!এখানে মা দুর্গার এগারোটা হাত। দেবতাদের পক্ষ থেকে দুর্গাকে দশ হাতে অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল অসুর বধের জন্য। আর বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে ঠাকুরকে একটা এক্সট্রা হাত দেওয়া হয়েছে,পুজোর সময় বাঙালির ওপর কেউ নিরামিষ খাওয়ার ফতোয়া জারি করতে এলে তাকে কানের গোড়ায় থাবড়া মেরে প্যাণ্ডেল এবং বাঙলা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য।”
উল্লেখ্য, দুর্গার ছবি নিয়ে এই বিতর্কের পাশাপাশি এবারের পুজোর ব্যবস্থাপনা নিয়েও বেশ কিছু বিধিনিষেধ স্পষ্ট করা হয়েছে। কলকাতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে পুজো করার অনুমতি দেওয়া হবে না। শব্দদূষণ নিয়েও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে—পুজোর সময় ডিজে বাজানো যাবে না। অষ্টমীর দিন রাজ্যজুড়ে মদ বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : পুজোর আগেই বড় সুখবর, ২০% বোনাস পাচ্ছেন উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকরা
প্রসঙ্গত, পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে বিশেষ অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের বিল মকুবের কথাও বলা হয়েছে। পুজোর পর কার্নিভ্যাল না করে মহালয়ার দিন ইডেনে কর্মসূচি করার সিদ্ধান্তও এবারের আয়োজনের অন্যতম বড় পরিবর্তন। সরকারি বিজ্ঞাপনে দুর্গার ১১ হাতের ছবি বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনা এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করার আশ্বাসের পরও বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।













