বাংলা হান্ট ডেস্ক : অবসরজীবনে হাতে টাকা না থাকলে প্রতিদিনের খরচ চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাতেই অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য রয়েছে কেন্দ্রের পেনশন প্রকল্প (Pension Scheme)। ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন যোজনা’ বা PM-SYM-এ কর্মজীবনেই নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা রাখতে হয়। সেই কিস্তির পরিমাণ নির্ধারিত হয় সদস্যের বয়স অনুযায়ী। নিয়ম মেনে টাকা দিতে থাকলে ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কেন্দ্রের এই পেনশন প্রকল্পের(Pension Scheme) ব্যাপারে জানুন
এই প্রকল্পে দীর্ঘ সময় ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে অবসরের পর একটি নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের বন্দোবস্ত করা যায়। বছরে সেই পেনশনের পরিমাণ দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৩৬,০০০ টাকা। যাঁদের অন্য কোনও অবসরকালীন আয়ের উৎস নেই, তাঁদের জন্য এই নির্দিষ্ট পেনশন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
PM-SYM-এ আবেদনের সময় আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। পাশাপাশি, তাঁর মাসিক উপার্জন ১৫ হাজার টাকার সীমা অতিক্রম করলে চলবে না। নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার অধীনে স্থায়ী চাকরি না করে যাঁরা নিজেদের শ্রমের উপর নির্ভর করে উপার্জন করেন, তাঁদের একটি বড় অংশ এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন।
তবে শুধুমাত্র বয়স ও আয়ের শর্ত পূরণ করলেই সদস্য হওয়া যাবে না। আবেদনকারী আয়করদাতা হলে এই সুবিধা মিলবে না। একইভাবে EPFO, NPS বা ESIC-এর মতো কোনও পেনশন, সামাজিক সুরক্ষা কিংবা বিমা ব্যবস্থার সদস্যরাও PM-SYM-এর জন্য যোগ্য নন। এই যোজনায় সবার জন্য একই পরিমাণ টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম নেই। যে বয়সে প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে, সেই বয়সের ভিত্তিতেই মাসিক টাকার অঙ্ক ঠিক হয়। তাই যত আগে সদস্য হওয়া যায়, তত কম কিস্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পেনশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

আরও পড়ুন : শিক্ষকদের বদলি নিয়ে নয়া নিয়ম! ইন্টার-ইউনিভার্সিটি ট্রান্সফারে মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
প্রসঙ্গত, ১৮ বছর বয়সে প্রকল্পে যোগ দিলে মাসে মাত্র ৫৫ টাকা জমা দিতে হয়। আবার ২৯ বছর বয়সে সদস্য হলে মাসিক কিস্তি বেড়ে হয় ২০০ টাকা। অর্থাৎ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকা বাড়ে। এরপর সদস্যকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত টাকা জমা রাখতে হবে।সেই বয়স অতিক্রম করার পর শুরু হবে পেনশন পাওয়ার পর্ব। সর্বোচ্চ মাসিক ৩,০০০ টাকা নিশ্চিত পেনশনের ব্যবস্থা রয়েছে এই প্রকল্পে। দিনভিত্তিক উপার্জনের উপর নির্ভরশীল কর্মীদের ক্ষেত্রে শেষ বয়সে নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের একটি ভিত্তি তৈরি করাই এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা।













