ডিভোর্সের পর খোরপোশ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! স্ত্রী-কন্যার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম, জানিয়ে দিল হাইকোর্ট

Published on:

Published on:

Calcutta High Court major verdict on alimony for wife and daughter
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ডিভোর্স মানেই প্রাক্তন স্ত্রীর প্রতি আর কোনও আর্থিক দায় থাকবে না—এমনটা নয়। খোরপোশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। হাইকোর্ট এও জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক এবং শারীরিক-মানসিকভাবে সক্ষম কন্যা সন্তানের জন্য সিআরপিসির ১২৫ ধারায় খোরপোশ চাওয়ার সুযোগ নেই।

খোরপোশ নিয়ে কী রায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ?

মামলার সূত্রপাত হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা সমর পাল ও জ্যোৎস্না পালের দাম্পত্য বিবাদকে কেন্দ্র করে। ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। কয়েক বছরের মধ্যে তাঁদের সংসারে আসে এক পুত্র ও এক কন্যা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে তৈরি হয় গভীর টানাপোড়েন। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন জ্যোৎস্না। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি অ্যাসিড হামলার মত গুরুতর অভিযোগের উল্লেখ ছিল। সেই মামলা চলাকালীন তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০২২ সালের জুন মাসে।

উল্লেখ্য, ডিভোর্সের পরই ভরণপোষণের দাবিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন জ্যোৎস্না। মাসে মোট ৩৫০০ টাকা চাওয়া হয়েছিল। তাঁর নিজের জন্য ১৫০০ টাকা এবং মেয়ের জন্য ২০০০ টাকা দেওয়ার দাবি ওঠে। এই দাবি মেনে নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হাইকোর্টে যান সমর পাল। তাঁর মূল বক্তব্য ছিল, যখন বৈবাহিক সম্পর্কই আর নেই, তখন প্রাক্তন স্ত্রীকে খোরপোশ দেওয়ার প্রশ্নও ওঠে না।
হাইকোর্ট অবশ্য এই যুক্তি গ্রহণ করেনি।

বিচারপতি উদয় কুমারের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, সিআরপিসির ১২৫(১) ধারায় ‘স্ত্রী’ শব্দের পরিধি কেবল বর্তমানে বিবাহিত মহিলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডির্ভোসী মহিলাও নির্দিষ্ট শর্তে এই আইনি সুরক্ষার আওতায় পড়েন। ফলে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় খোরপোশের দাবি করা যেতে পারে। তবে স্ত্রীর ক্ষেত্রে যে অধিকার বহাল রেখেছে আদালত, মেয়ের দাবির ক্ষেত্রে সেই একই অবস্থান নেয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, সমর পালের মেয়ে ২০১৭ সালেই সাবালিকা হন। তার দুবছর পরে তিনি খোরপোশের আবেদন করেছিলেন। সেই সময় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সক্ষম ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সিআরপিসির ১২৫ ধারার আওতায় তাঁর জন্য খোরপোশ দাবি করা যায় না বলে জানায় আদালত। আইনের এই ধারায় প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের জন্য ভরণপোষণের সুবিধা মূলত তখনই প্রযোজ্য, যখন সংশ্লিষ্ট সন্তান শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণে নিজের দেখভাল করতে অক্ষম।

Calcutta High Court major verdict on alimony for wife and daughter

আরও পড়ুন : আবাস যোজনায় বড় খবর! ৫৪.৫৭ লক্ষ পরিবারের হবে যাচাই,কারা পাবেন পাকা বাড়ি ?

আদালত জানিয়েছে, হিন্দু অ্যাডাপশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অ্যাক্টের ২০(৩) ধারার অধীনে তিনি সিভিল কোর্টে গিয়ে ভরণপোষণের দাবি তুলতে পারেন। মামলায় স্বামীর আর্থিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ট্রায়াল কোর্টের হাতেই রেখেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি বকেয়া খোরপোশের অর্ধেক অর্থ জমা দেওয়ার শর্তে সমর পালের বিরুদ্ধে জারি হওয়া ডিস্ট্রেস ওয়ারেন্ট স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থার প্রয়োগ যেন নিছক শাস্তিমূলক পদক্ষেপে পরিণত না হয়, সেই বার্তাই দিয়েছে হাইকোর্ট।