বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে চিন্তার ভাঁজ, হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

Published on:

Published on:

PIL filed in Calcutta High Court to curb the entry of outsiders into universities
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়েই বাইরের লোকজনের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এই ঘটনার কলকাতা হাইকোর্টের এই জনস্বার্থ মামলা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

কী আবেদন করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) ?

বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা উত্থাপিত হয়। আগামী বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। মামলাকারীদের মূল বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা যেখানে পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বাভাবিক শিক্ষাকাজের পরিবেশ বজায় থাকা জরুরি। অথচ বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের কারণে সেই পরিবেশ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

মামলাকারী জানিয়েছেন, নিরাপত্তার অভাব তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে এবং প্রশাসনিক কাজেও তার প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ। সাম্প্রতিক যাদবপুর-কাণ্ড সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বামপন্থী ও গেরুয়া ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই সময় বেশ কিছু বহিরাগত ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে হামলা, ভাঙচুর এবং তাণ্ডবে জড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটির পরই প্রশ্ন ওঠে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে নজরদারি এবং পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা আদৌ কতটা কার্যকর। এই প্রসঙ্গেই আগের আদালতের নির্দেশগুলিও সামনে আনা হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাড়াতে সিসিটিভি বসানো, ঢোকার সময় পরিচয়পত্র যাচাই এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মামলাকারীদের অভিযোগ, নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তার যথাযথ প্রয়োগ হয়নি। ফলে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের যাতায়াত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

PIL filed in Calcutta High Court to curb the entry of outsiders into universities

আরও পড়ুন : মেইন রোডে টোটো চলাচল কিছুতেই নয়! রাস্তায় টোটোর দৌরাত্ম্য নিয়ে কড়া বার্তা পরিবহণমন্ত্রীর

এখন মামলাকারীদের দাবি, রাজ্যের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বহিরাগত প্রবেশের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধি তৈরি করা হোক। কে ক্যাম্পাসে ঢুকবেন, কীভাবে পরিচয় যাচাই হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর করা হবে—এই বিষয়গুলিতে স্পষ্ট পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে আদালতের কাছে। এখন আর বিষয়টি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হাইকোর্ট কী নির্দেশ দেয়, আগামী শুনানিতে তার দিকেই নজর থাকবে।