বিফলে গেল ট্রাম্পের চেষ্টা? মোদী-জিনপিংয়ের কাছ থেকে শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ পুতিনের, থামবে ইউক্রেন যুদ্ধ?

Published on:

Published on:

Putin accepts peace proposal from Modi-Jinping regarding Russia-Ukraine War.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) একের পর এক কূটনৈতিক উদ্যোগ এখনও কোনও নির্দিষ্ট সমাধানের পথ দেখাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতেই ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চ থেকে উঠে এল নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ। ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে ভারত ও চিনের তরফে যে কোনও উদ্যোগে সহযোগিতা করার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে সাহায্যের আগ্রহ প্রকাশ করায় পুতিন তা ইতিবাচক ভাবেই নিয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে ভারত ও চিনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) নিয়ে মোদী-জিনপিংয়ের কাছ থেকে শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ পুতিনের:

ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনেই মোদী, শি এবং পুতিনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার ছবি আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট নজর কেড়েছে। তিন রাষ্ট্রনেতার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ছবি তোলার মুহূর্তকে অনেকেই কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না। বরং বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই দৃশ্যকে তিন বড় শক্তির মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের একটি প্রতীক হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের আলোচনায় ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে ‘পাওয়ার ট্রায়ো’ শব্দবন্ধ। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) নিয়ে পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক যখন অত্যন্ত জটিল, তখন ভারত ও চিনের মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন কোনও পথ তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের সময়েও কমেনি সাজসজ্জা! ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর চুলের স্টাইল থেকে মেকআপে খরচ ৪ কোটি

যুদ্ধ থামানোর জন্য এর আগে ওয়াশিংটনের তরফেও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিভ সফর করেছেন। ট্রাম্প নিজেও পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দ্রুত যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। পাশাপাশি মার্কিন-রুশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাত এখনও কোনও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছয়নি। এই পরিস্থিতিতে মস্কোর তরফে মোদী ও শির সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে রাশিয়ায় ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর সংসদীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। পুতিন-সমর্থিত ইউনাইটেড রাশিয়ার অবস্থান শক্তিশালী হলেও, আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তির পক্ষে বার্তা দেওয়া মস্কোর জন্য রাজনৈতিক ভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থানও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মস্কো, তেহরান এবং পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে একসঙ্গে যোগাযোগ রাখার ক্ষমতা ভারতের কূটনীতিকে আলাদা জায়গা দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন। ২০২২ সালে সমরখন্দে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে তাঁর ‘এটা যুদ্ধের যুগ নয়’ মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছিল। এরপর সাম্প্রতিক এসসিও বৈঠকেও তিনি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করে তার অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ব্রিকস বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে আলোচনাতেও মোদী স্পষ্ট করেছেন, সংলাপ ও কূটনীতিই সংঘাত মেটানোর পথ এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন হলে ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। রাশিয়ার সঙ্গেও ভারতের এই অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।

Putin accepts peace proposal from Modi-Jinping regarding Russia-Ukraine War.

আরও পড়ুন: মেইন রোডে টোটো চলাচল কিছুতেই নয়! রাস্তায় টোটোর দৌরাত্ম্য নিয়ে কড়া বার্তা পরিবহণমন্ত্রীর

এখন নজর পড়েছে আগামী ডিসেম্বরের জি-২০ সম্মেলনের দিকেও। মিয়ামিতে আয়োজিত ওই বৈঠকে পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একই মঞ্চে উপস্থিত হলে যুদ্ধ শুরুর পর তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, পুতিন সেখানে গেলে তিনি নিজে উপস্থিত হতে প্রস্তুত। যদিও এমন বৈঠক এখনও নিশ্চিত নয়, তবু সম্ভাবনাটিই আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে ব্রিকসের মঞ্চে মোদী ও শির শান্তি উদ্যোগে পুতিনের ইতিবাচক সাড়া ইউক্রেন সংঘাতকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা এগোয়, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পাশাপাশি ভারত ও চিনের মতো দুই গুরুত্বপূর্ণ শক্তি যদি আলোচনার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য বিশ্বকূটনীতিতে নতুন একটি পথ তৈরি হতে পারে (Russia-Ukraine War)।