বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে চিন ভারতকে (India-China Trade) একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তার একটি শক্তিশালী অর্থনীতির সাহায্য প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্যিক বোঝাপড়া পাকিস্তানকে অস্বস্তিতে ফেলবে। এই দুই দেশের বাণিজ্যের পথে অন্য কিছু বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। এমনিতেই এখন বিশ্বের সমগ্র ইকো সিস্টেমে শুধু ব্যবসাই রয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সোমবার তাঁর চিনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। যেখানে তাঁরা ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) মধ্যে পৌঁছনো গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়নে সম্মত হন।
পাকিস্তানের ঘুম ওড়াবে ভারত-চিন বাণিজ্যিক (India-China Trade) সম্পর্ক!
বাণিজ্যিক উদ্বেগ নিরসন: চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন যে, গত শনিবারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদী-জিনপিং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য খাতে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছেন। পরস্পরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্বেগগুলি ভারসাম্যপূর্ণভাবে সমাধানের পাশাপাশি তাঁরা উভয় দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও জনগণকে আরও ভালো সুবিধা প্রদানেও সম্মত হয়েছেন। দুই নেতাই খোলামেলা ও বিশদভাবে মতবিনিময় করেছেন। চিন ও ভারত যাতে অংশীদার হয়, এই গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে।

শি জিনপিংয়ের স্পষ্ট বার্তা: জানিয়ে রাখি , চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র শু ফেইহং কর্তৃক পূর্বে জারি করা একটি বিবৃতি অনুসারে জিনপিং বলেছিলেন যে, চিন সর্বদা ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে এবং বিকশিত করে। চিনের রাষ্ট্রপতি আরও বলেছেন, ভারত ও চিনের একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে না দেখে অংশীদার হিসাবে এবং হুমকি হিসাবে না দেখে উন্নয়নের সুযোগ হিসাবে বিবেচিত করা উচিত। এর কারণ হলো, উভয় দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। তিনি এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘ন্যায্য ও যৌক্তিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, উভয় পক্ষেরই একে অপরের শক্তিকে কাজে লাগানো উচিত ও পরস্পরকে সমর্থন করার মাধ্যমে যৌথ উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে: উল্লেখ্য যে, জিনপিং বলেছেন, গত দুই বছরে এই দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক আদান-প্রদান ক্রমান্বয়ে পুনরায় শুরু হয়েছে এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, এই অগ্রগতি ‘সহজে অর্জিত হয়নি’, এবং উভয় পক্ষকে বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে উন্নয়নই সবচেয়ে বড় যৌথ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময় ও পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এদিকে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ে জনমানসের ধারণা উন্নত করতে তিনি জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান বৃদ্ধি এবং সরাসরি বিমান চলাচল চালুরও আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও, একে অপরের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্বেগগুলি ভারসাম্যপূর্ণভাবে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: Vi-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ Airtel-Jio-র! তদন্ত শুরু করল TRAI, প্রভাবিত হবেন গ্রাহকরা?
মতপার্থক্য নিরসনের আহ্বান: জানিয়ে রাখি যে, চিনের রাষ্ট্রপতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎকে সীমান্ত বিরোধ নিরসনে অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। মতপার্থক্য নিরসনে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া’র আহ্বানও জানানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, উভয় পক্ষের উচিত সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সম্পর্ক এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত সংলাপে যৌথ ও পারস্পরিকভাবে শক্তিশালী অগ্রগতি সাধন করা। এদিকে, ভারত ও চিনের বৃহত্তর বিশ্বব্যাপী ভূমিকা প্রসঙ্গে শি জিনপিং ব্রিকস, জাতিসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) এবং জি-২০-এর মতো বহুপাক্ষিক ফোরামগুলিতে আরও ভালো সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উভয় দেশকে একে অপরের ব্রিকস সভাপতিত্বকে সমর্থন করতে, গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে এবং আন্তর্জাতিক ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার উন্নত রাখতে আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: যাত্রীদের জন্য সুখবর! সিজন টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে RailOne অ্যাপে বড় পরিবর্তন, হবেন লাভবান
এছাড়াও, জিনপিং গ্লোবাল সাউথের প্রেক্ষাপটে ভারত ও চিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথাও বলেছেন। তিনি বলেন যে, গ্লোবাল সাউথের সবচেয়ে জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ ২ টি সদস্য হিসাবে বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার দায়িত্ব তাঁদের রয়েছে। অপরদিকে, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী মোদী শি জিনপিংকে বলেছেন, ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তিগুলি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, উভয় পক্ষকে তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থ’—এই ৩ টি বিষয় মাথায় রাখতে হবে।













