বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের ভাঙ্গন সকলেই দেখেছেন। কেউ ঋতব্রতর দলে তো কেউ মমতার, আবার কেউ গিয়েছেন এনসিপিআইয়ে। NCPI এ যাঁরা গিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন জগদীশ্চন্দ্র বসুনিয়া (Jagadish Chandra Basunia)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আমলে কথা বলার কোনো সুযোগই ছিল না বলে জানান তিনি। আর কি কি বললেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
মমতা ব্যানার্জী বলতেন আমাদের চুপচাপ থাকতে হত : জগদীশ্চন্দ্র বসুনিয়া
এদিন শুরুতেই তিনি জানান, একটা মিটিংয়ে যখন আমরা বসি কারো বলার কোন সুযোগ ছিল না। শুধু মমতা ব্যানার্জী বলতো আমাদের শুনে এসে চুপচাপ থাকতে হত। একটা প্রটেস্ট করার ক্ষমতা বা বলার ক্ষমতা কারো থাকতো না। এটা আমি বলছি, আমি সাংসদ হওয়ার পরে নবান্ন সভাঘরে এসসি এসটি কাউন্সিল, জেলা কাউন্সিলর, রাজ্য কাউন্সিলর একটা মিটিংয়ে আমি ছিলাম। সেখানে আমি প্রশ্ন তুলেছিলাম যে রাজবংশী ছেলেমেয়েরা এখনো অনেক পিছিয়ে বাইরে যারা কাজ করতে যাচ্ছে তাদের বেশিরভাগ রাজবংশী এবং নসরশেখ মুসলিম। তাদের জন্য যদি আইটিআই কলেজ খুলে তাদের ট্রেনিং এবং কাজের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে এই ছেলেগুলো বাইরে যাওয়ার থেকে অন্তত তারা বাঁচবে’।
এরপর তিনি আরও জানান, আমার এই কথার সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, অনেক করেছি অনেক করেছি। আপনারা শুনছেন মিটিংটা, দেখছেন লাইভ টেলিকাস্ট। আমাকে আর দ্বিতীয়বার কথা বলতে দেননি উনি। এমন ধমক দিলেন আমাকে রাজবংশীদের জন্য অনেক করেছে আর না। এই ব্যাপারগুলো প্রতিনিয়ত ছিল। একটা কথা চালু ছিল যে তৃণমূলে একটাই পোস্ট বাকি সব ল্যাম্প পোস্ট।
আরও পড়ুনঃ ‘রাজনৈতিক সমাজের বাইরে বেরিয়ে মেধার মর্যাদা দিতে হবে’, সাফ বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের
মুখ্যমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আজকে প্রত্যেককেই আমি এটা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যে আমি একজন সাংসদ। আমি বর্তমান প্রধান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যেভাবে প্রতিনিয়ত ফোনে কথা বলা তার সঙ্গে গিয়ে বসা আমি আট বছরের বিধায়ক জীবন দুই বছরের এর সাংসদ জীবনে আমি কখনো মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এইভাবে পার্সোনালি দুজন ম্যান টু ম্যান আলাপ করার সুযোগ কোনদিন পাইনি। আমি ফোন করলেও ফোনটা কোনদিন ধরতো না।
এমনকি, আমাদের সেই সময় অভিষেক ব্যানার্জী যিনি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার দেখা করতে গেলে সুমিতের সঙ্গে কথা বলতে হত। তার পিএ এখানে বসে আছেন আমাদের মোহাম্মদ আফসনা আমার পিএ। এত ক্ষমতাধার ছিল সুমিতের, তার সঙ্গে কথা বলতে হতো। তারপরে তার টাইম নিতে হতো। তিনি দেখা করতেন না, ঘন্টার পর ঘন্টা সাংসদ মন্ত্রীরা স্ট্রিটের নিচে বসে থাকতেন। হয়তো সুমিতও দেখা করতো না অন্য কোন ছেলেদের দিয়ে কথা বলত।
এদিকে জেলার বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ বলছে, যে আপনি যেভাবে বিজেপি কর্মীদের সিতাইতে রাজনৈতিকভাবে তাদের বিভিন্ন রকম কেস দিয়েছেন। অত্যাচার করেছেন। এর জন্য বিজেপি কর্মীরা স্থানীয় কর্মীরা আপনাকে মেনে নিতে চাইছে না! এই প্রশ্ন করতেই তিনি জানান, এটা আমি বলতে পারব না। আমি যেদিন বিজেপিতে যোগদান করব যেদিন বিজেপি ঠেলা ধরব, সেদিন দায়িত্ব বিজেপি এবং তারা ঠিক করে দেবে। আমার কি কাজ, তার এলাকার লোকের কি। সেটা খুব তাড়াতাড়ি হয়তো পূজার আগেই হতে পারে। এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হতো পূজার আগে সেটা হতে পারে নালে পূজার পরে।













