সরকারের কাছে যথেষ্ট টাকা থাকা সত্ত্বেও বকেয়া DA মেটাচ্ছে না! মামলার মাঝেই বিস্ফোরক সরকারি কর্মীরা

Published on:

Published on:

dearness allowance(314)
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলায় পাশাপাশি বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে জোর চৰ্চা চলছে দেশের আরেক রাজ্য পাঞ্জাবেও। সম্প্রতি রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে এই রাজ্যের সরকার। যদিও হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ডিএ পরিশোধ করতে হবে ১০ দিনের মধ্যে।

ডিএ নিয়ে টালবাহানা অব্যাহত পাঞ্জাবে | Dearness Allowance

মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে প্রায় ১৪,১৯১ কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করার এই নির্দেশ সাংবিধানিকভাবে অসম্ভব, এই দাবি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। যখন এত স্বল্প সময়ে সরকারি কর্মচারীদের বিপুল পরিমাণ বকেয়া মেটানো সম্ভব নয় বলে আর্জি জানিয়েছে পাঞ্জাব সরকার সেই সময় গত চার বছরে রাজ্যের কর রাজস্বে ব্যাপক বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে আসরে কর্মচারী সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, রাজ্য সরকার যত দ্রুত সম্ভব প্রায় ১৪,২০০ কোটি টাকার বকেয়া ডিএ এবং এ সংক্রান্ত পাওনা পরিশোধ করতে পারে।

পাঞ্জাবের নিজস্ব রাজস্বের পরিসংখ্যানকেই হাতিয়ার করেছে কর্মচারী সংগঠনগুলো। ইউনিয়নগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালে রাজ্যের কর রাজস্ব ছিল প্রায় ৩৭,৩০০ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ সালে একলাফে বেড়ে ৫৭,৯০০ কোটি টাকা হয়েছে। একইসাথে আবগারি শুল্ক আদায়, যা ২০১৬-১৭ সালে গড়ে প্রায় ৪,৪০৬ কোটি টাকা এবং ২০২১-২২ সালে ৬,১৫৮ কোটি টাকা ছিল, তা বর্তমান সরকারের অধীনে এই অর্থ বছরে ১২,৮০০ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে, জিএসটি থেকে আয়ও বার্ষিক গড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা ২০২১-২২ সালের ১৫,৫৪১ কোটি টাকা থেকে এই বছর বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত চার বছরে প্রায় ১৯,৫০০ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ডিউটি ​​আদায় ইতোমধ্যেই পূর্ববর্তী দুটি পাঁচ বছর মেয়াদী সরকারের পূর্ণ মেয়াদের সময়কে ছাড়িয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এইসব পরিসংখ্যান দিয়ে কর্মচারীদের দাবি, এই প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে, সরকার যতটা বলছে তার থেকে রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা বেশি। যদিও এটা ইউনিয়নগুলোর যুক্তির একটি অংশ মাত্র। এই পরিসংখ্যান নিয়ে স্পষ্ট আপডেট নেই। এদিকে সরকার এই দাবি মামতে নারাজ।

ডেমোক্রেটিক টিচার্স ফ্রন্টের সভাপতি এবং ডেমোক্রেটিক এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের যুগ্ম সমন্বয় কমিটির রাজ্য নেতা বিক্রম দেব সিং-র অভিযোগ, এই হিসাবে কারচুপি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, পুরো হিসাবটিই পক্ষপাতদুষ্ট। পাঞ্জাব অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় তার আয়ের একটি বৃহত্তর অংশ বেতন ও পেনশনের জন্য ব্যয় করছে বলে দাবি তাঁদের।

Dearness Allowance(251)

আরও পড়ুন: বারুইপুর এনকাউন্টার মামলায় বড় মোড়, সব তথ্য ও নথি সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের

সরকারের মতে, রাজস্ব বৃদ্ধি পেলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উদ্বৃত্ত অর্থে পরিণত হয় না। রাজ্যকে এখনও বেতন, পেনশন, সুদ পরিশোধ এবং ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা মেটাতে হয়। এর রাজস্ব ও আর্থিক ঘাটতি হ্রাস পেলেও তা যথেষ্ট পরিমাণে রয়ে গেছে বলে দাবি। পাশাপাশি অর্থনীতিবিদরাও রাজস্বের পরিসংখ্যান নিয়ে ইউনিয়নগুলোর ব্যাখ্যাকে সমর্থন করেন না বলেই দাবি রিপোর্টে।