বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) একাধিক জেলায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পের জন্য মোট ১,০৪২.৬২ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। এর ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল—বিভিন্ন এলাকায় ১৯৪ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তার সম্প্রসারণ, মেরামতি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে।
রাজ্যের (West Bengal) সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বদল
১৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের তরফে রাজ্যের পূর্ত দফতরের সচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকড়ী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রককে ধন্যবাদ জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ যাচ্ছে পুরুলিয়ার রাস্তার কাজে। রঘুনাথপুর চন্দনকিয়ারি-চাস সড়কের প্রায় ২৮.৩০ কিলোমিটার অংশকে দুই লেনের রাস্তায় উন্নীত করার পাশাপাশি পাকা শোল্ডার তৈরির কাজ হবে। এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ২২৬.৬৬ কোটি টাকা।
কোচবিহারেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন হবে। চ্যাংরাবান্ধা জামালদহ-মাথাভাঙা এবং মাথাভাঙা-কোচবিহার—এই দুই রাস্তা মিলিয়ে ৪১.৩০ কিলোমিটার অংশে প্রশস্তকরণ ও মজবুত করার কাজ করা হবে। এর জন্য ব্যয়ের ধরা হয়েছে ১৯০.২৯ কোটি টাকা। হুগলির ক্ষেত্রেও প্রায় ৪১ কিলোমিটার রাস্তা এই প্রকল্পের আওতায় আসছে। মগরা-সুলতানগঞ্জ এবং সুলতানগঞ্জ-খানপুর-দাশঘরা রাস্তার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে ১৮১.৮৯ কোটি টাকা খরচ করা হবে।
পূর্ব বর্ধমানের দুটি রাস্তার জন্যও উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। ২৪.৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ মন্তেশ্বর-দাঁইহাট রাস্তার সম্প্রসারণ ও সংস্কারে ব্যয় হবে ১৩৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৪৬.৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ধমান-কাটোয়া রাস্তার পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে ১৫৬.৬৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই কাজের মধ্যে রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি কালভার্ট, নিকাশি ব্যবস্থা এবং সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামোর উন্নয়নও রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনাতেও নতুন করে রাস্তার কাজ শুরু হবে। ১২.৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিষ্ণুপুর-বেলেঘাটা সড়কের উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সম্প্রসারণ এবং মেরামতির পাশাপাশি সেতু-সহ অন্যান্য পরিকাঠামোর কাজ করা হবে। এই প্রকল্পে বরাদ্দ হয়েছে ১৪৮.০৮ কোটি টাকা।
রাজ্যের মূল লক্ষ্য, গ্রামাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ করা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথগুলির সক্ষমতা বাড়ানো। পণ্য পরিবহণকে গতিশীল করার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের অনুমোদনের সঙ্গে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।অনুমোদিত পরিকল্পনার বাইরে প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তন করা যাবে না। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে এবং CRIF Act ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা মেনে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

আরও পড়ুন : বারুইপুর এনকাউন্টার মামলায় বড় মোড়, সব তথ্য ও নথি সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের
রাজ্য পূর্ত দফতর জানিয়েছে, অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলির কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের মান বজায় রাখার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। বরাদ্দ অর্থ দিয়ে এই ছয় সড়ক প্রকল্পের হাত ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা সহজ হয় সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে।













