বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাজ্যের স্কুলগুলিতে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত বা পিটিআর মেনে অবিলম্বে শিক্ষকদের ‘সারপ্লাস ট্রান্সফার’ (Surplus Transfer) বা উদ্বৃত্ত বদলি কার্যকর করার জন্য জুলাই মাসে কড়া নির্দেশ দিয়েছিল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সেই SOP প্রক্রিয়া নিয়ে এদিন প্রশ্ন তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত SOP-র উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ।
‘সারপ্লাস ট্রান্সফার’ কী? Surplus Transfer
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনও ‘সারপ্লাস ট্রান্সফার’ করা যাবে না। আদালতের সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা স্বস্তিতে শিক্ষকরা। কিন্তু কী এই সারপ্লাস ট্রান্সফার? কখন হয়? রাইট টু এডুকেশন (RTE) অ্যাক্ট ২০০৯ অনুযায়ী, যেকোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকের আদর্শ অনুপাত হতে হবে ৩০:১। অর্থাৎ, প্রতি ৩০ জন পড়ুয়া পিছু ন্যূনতম একজন করে শিক্ষক থাকা আবশ্যক। এই আইনকে সামনে রেখেই পদক্ষেপ করেছিল স্কুলশিক্ষা দপ্তর।
স্কুলশিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত বা পিটিআর মেনে অবিলম্বে শিক্ষকদের ‘সারপ্লাস ট্রান্সফার’ (Surplus Transfer) বা উদ্বৃত্ত বদলি কার্যকর করতে হবে। বলা হয়েছিল প্রাথমিক স্কুলে বদলির ক্ষেত্রে প্রথম বয়সে নবীন শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীকে বেছে নেওয়া হবে। পুরোনো স্কুলে থেকে যাওয়ার সুযোগ অপেক্ষাকৃত প্রবীণ শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীদের জন্য থাকবে। তবে এক্ষেত্রে যদি প্রবীণ কেউ আগ্রহী হলে তিনিও বদলির জন্য আবেদন করতে পারেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্কুলের ক্ষেত্রে সাবজেক্ট টিচার একজন থাকলে তাঁকে যাতে বদলি না করা হয় সে চেষ্টা করা হবে। একাধিক সাবজেক্ট টিচার থাকলে বয়সে ছোটো শিক্ষক প্রথমে বাছাই হবেন। এক্ষেত্রে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বদলির আওতায় নেই।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষকদের নতুন স্কুলের মধ্যে যে কোনো তিনটি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ওই তিনটি স্কুলে শূন্যপদ না থাকলে ডিআই বা ডিপিএসসি চেয়ারম্যান তাঁদের যে স্কুলে পাঠাবেন, সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে। বাড়তি শিক্ষকদের আপগ্রেডেড (উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত) স্কুলে অনুমোদিত শিক্ষক পদ না থাকলে বদলির সুযোগ দেওয়া হবে।
পড়ুয়াশূন্য যেসব স্কুল থেকে সমস্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী অন্যত্র নেওয়া হবে, সেগুলির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এসআইরা নেবেন বলে নয়া নিয়মে বলা হয়েছিল। এই নিয়ে অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। অভিযোগ উঠছিল, ‘অতিরিক্ত শিক্ষক’ হিসেবে ভুল নিয়মে চিহ্নিত করে শিক্ষক বদলি করা হচ্ছে। ‘অতিরিক্ত’ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক হিসাবের বদলে বয়সকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ওঠে অভিযোগ।

আরও পড়ুন: কৃষকদের জন্য ৪ বাম্পার সরকারি প্রকল্প! কোন স্কিমে টাকা বেশি? কোনটায় বেশি সুবিধা জানুন
সেই সংক্রান্ত মামলাতেই বদলির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি সিনহা। কোন বিধির ভিত্তিতে কোনও শিক্ষককে ‘অতিরিক্ত’ চিহ্নিত করে অন্য স্কুলে পাঠানো হচ্ছে, সেই বিষয়ে জানতে জানতে তিনি। এসওপির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। আপাতত এই ধরনের বদলির নির্দেশ দেওয়া যাবে না বলে অন্তর্বর্তী নির্দেশে হাইকোর্টের। হাইকোর্টের নির্দেশ, আপাতত আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।













