বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর মরশুমে বাজারদরের চাপ কিছুটা কমাতে এবার চিনির দামে (Sugar Price) সরাসরি হস্তক্ষেপ করল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। উৎসবের সময়ে চাহিদা বাড়ার আগেই পাইকারি বাজারে দামের ঊর্ধ্বসীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের আশা, এর ফলে খুচরো বাজারেও দ্রুত প্রভাব পড়বে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই সাধারণ ক্রেতারা কম দামে চিনি কিনতে পারবেন।
চিনির দাম বেঁধে দিল রাজ্য সরকার(West Bengal Government)
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেজিপিছু ৫০ টাকার বেশি দামে পাইকারি বাজারে চিনি বিক্রি করা যাবে না। দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারি বিক্রয় ব্যবস্থার আওতাতেও আনা হচ্ছে এই পণ্যকে। পুজোর আগেই সুফল বাংলা স্টলে চিনি মিলবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন দপ্তর। বাজারের পাশাপাশি সরকারি বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমেও নির্ধারিত দামে সাধারণ মানুষের কাছে চিনি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চিনির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। একসময় কেজিতে প্রায় ৭০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায় দাম। উৎসবের আগে এমন পরিস্থিতিতে শুধু সংসারের বাজার খরচই বাড়েনি, মিষ্টির দামেও তার প্রভাব পড়েছে। সেই কারণেই বাজারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসে সরকার। পোস্তা বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ৩, ৫ এবং ১১ সেপ্টেম্বর বৈঠক করেন কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয় এবং উৎসবের সময়ে হঠাৎ করে দাম না বাড়ে, মূলত সেই বিষয়গুলিই আলোচনায় উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত পাইকারি দরের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ টাকা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই দর অন্তত আগামী তিন মাস রাখার কথা বলা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “গত এক মাস ধরে দেশ তথা রাজ্যে চিনির দাম টানা বাড়তে থাকায় লাগাম টানতে সরাসরি ময়দানে নেমেছে কৃষি বিপণন দপ্তর। পোস্তা বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করে চিনির সর্বোচ্চ দর ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরো বাজারে আর দু’তিন টাকা বাড়তে পারে। ফলে আগামী অন্তত তিন মাস অর্থাৎ পুজো ও উৎসবের মরশুমে চিনির বাজারে স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

আরও পড়ুন :আগামীকালই ঢুকছে টাকা! সেপ্টেম্বর মাসের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় খবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
সরকারি ব্যবস্থাপনায় পণ্য পরিবহণ ও মজুতের ক্ষেত্রেও কিছু সুবিধা দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।চিনির পাশাপাশি পেঁয়াজের দাম নিয়েও নজরদারি বাড়াচ্ছে প্রশাসন। বর্তমানে অনেক জায়গায় খুচরো বাজারে কেজি প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত নজর রাখবে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। অন্যদিকে, পেঁয়াজের দামের সমস্যা মেটাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে ১০টি কোল্ড স্টোরেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সংরক্ষণের পরিকাঠামো বাড়ানো যায়। সব মিলিয়ে পুজোর মরশুমে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন রাজ্যের লক্ষ্য।













