বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত জুলাই মাসে গ্রেফতার হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)। তিনি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা গায়িকা অদিতি মুন্সির স্বামীও। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি করল পুলিশ। তোলাবাজির টাকার লেনদেন নিয়ে সেখানে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
অভিষেক ঘনিষ্ঠ দেবরাজের বিরুদ্ধে চার্জশিট পুলিশের | (Debraj Chakraborty)
বারাসাত আদালতে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজের বিরুদ্ধে তৃতীয় চার্জশিট জমা দিয়েছে বাগুইআটি থানা। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বাগুইআটি-কেষ্টপুর এলাকা থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা তোলাবাজি করা হয়েছিল। সেই টাকা প্রথমে যুব তৃণমূলের একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। ওই অ্যাকাউন্টটির অন্যতম অথরাইজড সিগনেটরি ছিলেন দেবরাজ নিজে।
আরও পড়ুনঃ রাত পোহালেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩ হাজার! সেপ্টেম্বরে অন্নপূর্ণা যোজনা কারা পাবেন না জানুন
চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, পরবর্তীতে যুব তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস (Leaps and Bounds) কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়। অ্যাকাউন্ট টু অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ওই টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছিল বলে খবর।
এদিকে দেবরাজের বিরুদ্ধে চার্জশিটে এই দাবি করা হতেই বেশ কিছু প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে। যুব তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্ট থেকে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছিল? এই লেনদেনের পিছনে আরও কারা যুক্ত আছেন? এমন বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে পালাবদলের পরেই অদিতি ও তাঁর স্বামী দেবরাজের বিরুদ্ধে সম্পত্তির হিসাব নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, নির্বাচনী হলফনামায় তিনি সম্পত্তি কম করে দেখিয়েছেন।

পাশাপাশি দম্পতির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ উঠেছিল, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে ও আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তর করেছেন তাঁরা। এমনকি আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন সম্পত্তি, সেগুলি গোপন করা ও অর্থপাচারের মতো অভিযোগও ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে।
এই সূত্রে রক্ষাকবচ চেয়ে দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রী অদিতি দু’জনেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। একরত্তি সন্তানের মুখ চেয়ে অদিতিকে রক্ষাকবচ দিলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপরেই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।













