নদিয়াতে অ্যাস্ট্রো পার্ক, কালিম্পঙে স্যাটেলাইট বায়োটেক হাব, বড় চুক্তি IIT খড়্গপুর ও রাজ্য সরকারের

Published on:

Published on:

33rd West Bengal State Science and Technology Congress at the New Town Convention Centre
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে মহাকাশ ও জীবপ্রযুক্তি গবেষণার প্রসারে নতুন উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। নদিয়ায় একটি সম্পূর্ণ অ্যাস্ট্রো পার্ক (Astro Park in Nadia) এবং কালিম্পঙে স্যাটেলাইট বায়োটেক হাব (Satelite Bio-Tech Hub in Kalimpong) তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ৩৩তম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কংগ্রেসে (২০২৬) ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই দুটি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন রাজ্যের বিজ্ঞান ও জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী।

নদীয়াতে অ্যাস্ট্রো পার্ক, কালিম্পঙে স্যাটেলাইট বায়োটেক হাব

যেমনটা জানা যাচ্ছে, অ্যাস্ট্রো পার্কটি ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়ামের (NCSM) সহযোগিতায় তৈরি করা হবে। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এদিন জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই নদিয়ায় দু’একর জমি চিহ্নিত করা হয়ে গেছে। এছাড়া পার্কটি তৈরির জন্য নদিয়া জেলাকে বেছে নেওয়ার একটি বিশেষ ভৌগোলিক কারণ রয়েছে।

এদিন মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী জানান, নদিয়ার ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) বিস্তৃত থাকায় এই ভৌগোলিক অবস্থান অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বা জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা সংক্রান্ত গবেষণার জন্য অত্যন্ত আদর্শ। অন্যদিকে, পাহাড়ি এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে কালিম্পঙে গড়ে তোলা হচ্ছে স্যাটেলাইট বায়োটেক হাব।

বিজ্ঞান কংগ্রেসে পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাটলাস অ্যান্ড থিম্যাটিক ম্যাপিং অর্গানাইজেশনের (NATMO) সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে রাজ্যের একটি নতুন স্টেট অ্যাটলাস তৈরি করা হবে। এই মানচিত্রের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে দৃষ্টিহীনদের জন্য বিশেষ ব্রেইল ম্যাপ। এর ফলে রাজ্যের ভৌগোলিক তথ্য বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের কাছেও সহজে পৌঁছাবে।

আরও পড়ুনঃ ধূমপায়ীদের পকেটে ছ্যাঁকা! ফের দাম বাড়ল সিগারেটের, গোল্ড ফ্লেক-ক্লাসিক কিনতে হবে কত খরচ?

সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কাজের পদ্ধতিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে আইআইটি খড়গপুরের (IIT Kharagpur) সঙ্গেও একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মহাকাশ গবেষণাকে যুক্ত করার বিষয় নিয়ে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্যে বিজ্ঞান গবেষণার পরিধি বাড়াতে এই উদ্যোগগুলি আগামী দিনে বিশেষ কার্যকরী হতে পারে। অ্যাস্ট্রো পার্ক বা বায়োটেক হাবের মতো পরিকাঠামো কেবল গবেষণার কাজেই লাগবে না, স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞান সম্পর্কে উৎসাহ বাড়াতেও সাহায্য করবে। বিশেষত, ইসরোর সঙ্গে রাজ্যের আলোচনা চূড়ান্ত হলে আগামী দিনে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারে মহাকাশ বিজ্ঞান।