ব্রিকসের পর অসুস্থ একের পর এক বিশ্বনেতা? সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই শুরু হতেই কী জানাল বিদেশ মন্ত্রক?

Published on:

Published on:

What did India say on the illnesses of world leaders after returning from the BRICS summit?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit) শেষ হওয়ার পর একের পর এক বিশ্বনেতা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন—সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার সরাসরি সতর্কবার্তা দিল ভারতের (India) বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের ফ্যাক্ট-চেকিং ইউনিট সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই দাবিগুলিকে ‘ফেক অ্যালার্ট’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের সঙ্গে বিশ্বনেতাদের অসুস্থতার কোনও যোগ রয়েছে বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছিল, তা নিয়ে ভারতের সরকারি অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে গেল।

ব্রিকসের পর একের পর এক বিশ্বনেতার অসুস্থতা নিয়ে কি বলল ভারত (India)

তবে এই বিতর্কের মাঝেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার অসুস্থতার খবরটি অবশ্য সত্যি। তাঁর দফতর জানিয়েছে, অসুস্থতার কারণে আপাতত সরকারি ও জনসমক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে তাঁকে বিরতি নিতে হয়েছে। ৭৩ বছর বয়সি রামাফোসা ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি থেকে দেশে ফেরেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে রয়েছেন। তাঁর নির্ধারিত কিছু কর্মসূচিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা প্রতিনিধিত্ব করবেন বলেও জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, রামাফোসার অসুস্থতার বিষয়টি সরকারি ভাবে জানানো হলেও, সেটিকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অতিরিক্ত নানা দাবি যে নির্ভরযোগ্য নয়, সেই পার্থক্যটিই তুলে ধরেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক (India)।

আরও পড়ুন: একাধিক চ্যালেঞ্জ সামলে লক্ষ্যে অবিচল! প্রধানমন্ত্রীর ৭৬ তম জন্মদিনে জানুন তাঁর দুর্ধর্ষ ৫ রেকর্ড

রামাফোসার পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার ডেপুটি প্রেসিডেন্ট পল মাশাতিলের শারীরিক অবস্থাকেও ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তিনি আগে একটি ছোট অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার পর্যায়ে রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে আছেন। ফলে দেশের প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি প্রেসিডেন্ট দু’জনই একই সময়ে সীমিত সরকারি কর্মসূচিতে থাকায় সমাজমাধ্যমে নানা ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মাশাতিলের ক্ষেত্রে তাঁর দফতর জানিয়েছে, সরকারের কাজকর্ম স্বাভাবিক ভাবেই চলছে। তাই এই দুই ঘটনার সঙ্গে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের কোনও সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো কোনও সরকারি তথ্য নেই।

এদিকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে নিয়েও সমাজমাধ্যমে একাধিক দাবি ছড়িয়ে পড়ে। কিছু অপ্রমাণিত পোস্টে বলা হয়, শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি নাকি নির্ধারিত সময়ের আগেই ব্রিকস সম্মেলন ছেড়ে চিনে ফিরে গিয়েছিলেন। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে আরও নানা দাবি সামনে আসে। কিন্তু এই দাবিগুলির পক্ষে কোনও সরকারি বা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই রামাফোসার ক্ষেত্রে সরকারি ভাবে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে শি জিনপিংকে ঘিরে ছড়ানো অপ্রমাণিত দাবিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। বিদেশ মন্ত্রকের ফ্যাক্ট-চেক ইউনিটও মূলত এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্ট নিয়ে সতর্ক করেছে।

What did India say on the illnesses of world leaders after returning from the BRICS summit?

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফের পকেটে চাপ মধ্যবিত্তের! বাড়ল সোনার দাম, জানুন আজকের রেট

উল্লেখ্য, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসেছিল ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারতের (India) সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা-সহ সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা অংশ নেন। এবারের আলোচনায় স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। সম্মেলন শেষ হওয়ার পর একাধিক নেতার স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজমাধ্যমে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে কোনটি সরকারি ভাবে নিশ্চিত আর কোনটি নিছক অনলাইন দাবি—সেই সীমারেখাই এবার স্পষ্ট করে দিল নয়াদিল্লি।