রেয়াপাড়ায় বিজেপির বিধায়ক কার্যালয়ে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানেই আনুষ্ঠানিক ভাবে দলের প্রার্থী হিসেবে হাসিরানি রথকে সামনে আনা হয়। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ছেলে চন্দ্রনাথের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে আসে। ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর প্রচারে তাঁর ভূমিকার কথা আগেও একাধিক বার সামনে এসেছে। শুভেন্দুর সঙ্গে কাজ করার সূত্রেই চন্দ্রনাথের নাম রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিল। ছেলের মৃত্যুর পর সেই স্মৃতিই আঁকড়ে থাকার কথা জানিয়েছিলেন হাসিরানি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক নন্দীগ্রামের সভাতেও চন্দ্রনাথকে স্মরণ করেছিলেন শুভেন্দু। গত মঙ্গলবারের সেই সভায় তিনি বলেন, তাঁকে সহযোগিতা করার কারণেই চন্দ্রনাথকে অকালে চলে যেতে হয়েছিল। সেই বক্তব্যের পরেই ফের চন্দ্রনাথের মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক কারণ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভবানীপুরের নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে ছেলের মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, জানতে চাওয়া হয়েছিল হাসিরানির কাছে। হাসিরানি রথ বলেন, “আমি সে কথা বলতে পারব না৷ কিন্তু, ভোটের কিছুদিন আগে কিন্তু, আমাদের অভিষেক ব্যানার্জি বলেছিলেন একটা সভায় যে, শুভেন্দু বাবুর রথকে উল্টো করে বাড়ি পাঠিয়ে দেবেন৷ আমরা তখন ভেবেছিলাম বিজয় রথ৷ তখন থেকেই হয়ত প্ল্যান প্রোগ্রাম চলছিল৷ সেটাই হয়ত আমার ধারণা, আমি বলেছিলাম এই জন্যেই হয়ত ভবানীপুরের হারটা হয়ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনে নিতে পারেননি৷ তাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে৷”
হাসিরানির বক্তব্যে একই সঙ্গে রয়েছে সন্দেহ এবং অনিশ্চয়তার কথাও। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলার মতো তথ্য তাঁর কাছে নেই। তবে ভোটের আগে অভিষেকের মন্তব্য এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে পাশাপাশি রেখে তিনি যে প্রশ্ন তুলছেন, তা স্পষ্ট। চন্দ্রনাথের মৃত্যুর চার মাসও এখনও পূর্ণ হয়নি। সেই অবস্থাতেই ছেলের অসম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বপ্ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তাঁর মা।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের প্রচার এখনও পুরোপুরি জমে ওঠার আগেই চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হল। হাসিরানির অভিযোগের জবাবে তৃণমূল বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেটাই দেখার। পাশাপাশি তাঁর তোলা দাবির কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ বা তদন্তের তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল ।