বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এবার নজরে এল অন্যরকম এক ছবি। কোথাও স্কুল রয়েছে, পরিকাঠামো রয়েছে, শিক্ষকও রয়েছেন, অথচ শ্রেণিকক্ষে পড়ার মতো একজন পড়ুয়াও নেই। এমন প্রতিষ্ঠানগুলিকে আর এভাবে ফেলে রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। পড়ুয়া শূন্য স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে এবার প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়েছে তৎপরতা।
পড়ুয়া শূন্য স্কুলগুলি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)?
সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুল মিলিয়ে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪,১৩৩। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য হলেও সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষক। ফলে একদিকে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকা স্কুল পরিকাঠামো, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক—দুই বিষয়কে মাথায় রেখেই এবার পরবর্তী পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বাস্তব পরিস্থিতি আলাদাভাবে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্কুলটি কোথায় অবস্থিত, ভবনের অবস্থা কেমন, কতটা পরিকাঠামো রয়েছে এবং স্থানীয় স্তরে সেই জায়গার কী প্রয়োজন-এই বিষয়গুলি বিচার করেই রিপোর্ট তৈরি করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট স্কুলবাড়ির পরবর্তী ব্যবহার। এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
শিক্ষা সচিবের নির্দেশ পাওয়ার পর জেলাশাসকদের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জেলা স্তরে গঠিত কমিটি সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির পরিকাঠামো পরিদর্শন করে সম্ভাব্য ব্যবহারের বিষয়ে মতামত দেবে। কলকাতার ক্ষেত্রেও একইভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার কমিশনারকেও এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে শিক্ষা দফতরের তরফে। অব্যবহৃত ভবনগুলিকে নতুন করে কাজে লাগানোর একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কোনও জায়গায় স্কুলবাড়িকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রূপান্তর করা যেতে পারে, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে প্রশিক্ষণকেন্দ্রও চালু হতে পারে। জায়গাগুলি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী জনস্বার্থে অন্য পরিষেবার জন্যও ব্যবহার করার রাস্তা খোলা রাখা হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আরও একটি বিকল্পের কথাও ভাবা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : নিয়ন্ত্রণে দাম! উৎসবের মরশুমে চিনির মজুতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের, রয়েছে শর্তও
উপযুক্ত পরিকাঠামো ও পরিস্থিতি থাকলে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অর্থাৎ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা PPP মডেলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সম্ভাবনাও রয়েছে। কোন স্কুলে কোন পদ্ধতি কার্যকর হবে, তা অবশ্য জেলা প্রশাসনের পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত হবে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে এই ৪,১৩৩টি স্কুল নিয়ে পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ করার কথা। দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়া শূন্য হয়ে থাকা স্কুলগুলির ভবন এবার তাই নতুন কোনও পরিষেবার কেন্দ্র হয়ে ওঠে কি না, সেই দিকেই তাকিয়ে শিক্ষা মহল।














