বাংলা হান্ট ডেস্ক : ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের ফলাফল এখনও রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম বিষয়। সেই আবহেই তৃণমূলের অন্দরের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তাঁর দাবি, ভোটের আগেই দলের অন্দরে এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করা। সেই তালিকায় নাকি প্রথমেই রাখা হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।
বড় দাবি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee)
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঋতব্রতর দাবি, মোট ১৪ জন তৃণমূল প্রার্থীকে নির্বাচনে হারানোর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কৌশল নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার কেন্দ্র ছিল ক্যামাক স্ট্রিট। তালিকায় আর কারা ছিলেন, তা নিয়েও তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এমনকি প্রয়োজন পড়লে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রমাণ আদালতে পেশ করার কথাও জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
ঋতব্রতের দাবি, নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই দলের মধ্যে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে ঘিরে থাকা পুরনো নেতৃত্বের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক পরিসর তৈরির চেষ্টা চলছিল বলে তাঁর অভিযোগ। ভোটের আগে প্রকাশ্যে সেই বিরোধ খুব বেশি সামনে না এলেও সংগঠনের ভিতরে তার প্রভাব ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুধু রাজনৈতিক মতবিরোধেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল না বলেই অভিযোগ ঋতব্রতের। তাঁর দাবি, যাঁদের হারানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছিল। বিশেষ করে বুথে দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্টদের বাধার মুখে ফেলা এবং প্রভাবশালী স্থানীয় কর্মীদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। এর মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ভোটের লড়াইয়ে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ঋতব্রত ।
প্রসঙ্গত, এই অভিযোগের পর ফের নজর পড়ছে ভবানীপুরের ফলাফলের দিকে। নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটিতেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের ফল প্রকাশের পর সেই নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছিল। মমতার পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে দলের এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

আরও পড়ুন : নিয়ন্ত্রণে দাম! উৎসবের মরশুমে চিনির মজুতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের, রয়েছে শর্তও
এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সঙ্গে ভবানীপুরের সেই ঘটনাগুলির কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ক্যামাক স্ট্রিট থেকে ১৪ জন প্রার্থীকে হারানোর যে অভিযোগ তিনি তুলেছেন, তার সত্যতা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ও তদন্তই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, হাতে থাকা তথ্য প্রকাশ্যে এলে ২০২৬-এর নির্বাচনের নেপথ্য কৌশল নিয়ে আরও বড় বিতর্ক তৈরি হতে পারে।














