জামাই-শ্যালক জুটির দুর্ধর্ষ স্টার্টআপ! ২ বছরেই ১২ কোটির ব্যবসা, অবাক করবে পীযূষ-প্রশান্তের কাহিনি

Published on:

Published on:

Success Story of Piyush and Prashant will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: উদয়পুরের (Udaipur) দুই উদ্যোক্তা পীযূষ জৈন এবং চিকিৎসক প্রশান্ত আগরওয়ালের হাত ধরে তৈরি হয়েছে তাদের সফল (Success Story) উদ্যোগ স্কিনইন্সপায়ারড (SkinInspired)। একজনের FMCG-র দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, অন্যজনের প্রায় দুই দশকের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা—এই দুই ক্ষেত্রের মেলবন্ধনেই তৈরি হয় বিজ্ঞানভিত্তিক স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডটি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পীযূষের Procter & Gamble-এ দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল। অন্যদিকে, চিকিৎসক প্রশান্ত আগরওয়াল চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করছেন এবং স্কিনইন্সপায়ারড-এর ফর্মুলেশন ও গবেষণার দিকটি দেখছেন। সংস্থার নিজস্ব তথ্যেও তাঁকে ব্র্যান্ডটির চিফ ফর্মুলেটর হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পীযূষ ও প্রশান্তের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

স্কিনইন্সপায়ারড তৈরির পিছনে মূল ভাবনাই ছিল ত্বকের যত্নে প্রচলিত ধারণার বদলে বিজ্ঞান ও চর্মরোগ বিষয়ক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া। P&G-তে কাজ করার সময় ভারতীয় বাজার এবং ক্রেতাদের চাহিদা কাছ থেকে দেখেছিলেন পীযূষ। অন্যদিকে ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় ডঃ প্রশান্ত দেখেছেন, ভুল পণ্য বা ভুলভাবে ব্যবহারের কারণে অনেক সময় ত্বকের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। সেখান থেকেই এমন একটি ব্র্যান্ড তৈরির পরিকল্পনা, যেখানে সক্রিয় উপাদান, গবেষণা এবং চর্মরোগবিদ্যার জ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্কিনইন্সপায়ারডও নিজেদের ওয়েবসাইটে তাদের পণ্যকে বিজ্ঞান-সমর্থিত এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শনির্ভর হিসেবে তুলে ধরেছে (Success Story)।

আরও পড়ুন: ৩ দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের আগে রবিবার খোলা রাখতে হবে ব্যাঙ্ক! বিবৃতি জারি করে কী জানাল কেন্দ্র?

ব্র্যান্ডটির আর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং। স্কিনইন্সপায়ারড রিফিলযোগ্য ত্বকের যত্নের পাশাপাশি এয়ারলেস জার ও পাম্প প্যাকেজিং ব্যবহার করেছে, যাতে সংবেদনশীল উপাদানগুলি বাতাস ও আলোর সংস্পর্শ থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে। এই মডেলে মূল কন্টেনার বারবার ব্যবহার করে শুধু প্রয়োজনীয় অংশটি রিফিল করার সুযোগ রয়েছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পুনরায় পূরণযোগ্য প্যাকেজিং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্থার পণ্যের তালিকায় ফেস ওয়াশ, সিরাম, সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চারাইজার-এর পাশাপাশি বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা কেন্দ্রিক পণ্যও রয়েছে।

শুরু থেকেই ব্যবসায়িক দিক থেকেও নজর কেড়েছে এই সংস্থা। ২০২৪ সালে স্কিনইন্সপায়ারড ১২.২৫ কোটি টাকা সিড ফান্ডিং সংগ্রহ করে, যার নেতৃত্বে ছিল ইউনিলিভার ভেঞ্চারস। এই বিনিয়োগের পাশাপাশি অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর হিসেবে Dr Vaidya’s-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা অর্জুন বৈদ্যও অংশ নেন। ওই অর্থ গবেষণা ও উন্নয়ন, ব্র্যান্ড মার্কেটিং এবং বাজার সম্প্রসারণে ব্যবহারের কথা জানিয়েছিল সংস্থা। চারটি মূল ক্যাটাগরি—ফেস ওয়াশ, ফেস সিরাম, সানস্ক্রিন এবং ময়েশ্চারাইজার—দিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্র্যান্ডটি পরবর্তীতে পণ্যের পরিসর বাড়িয়েছে।

Success Story of Piyush and Prashant will amaze you

আরও পড়ুন: শুল্ক-চাপের মাঝেই আমেরিকায় G20 Summit-এ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! ট্রাম্পের সঙ্গে হবে বৈঠকও

আজ স্কিনইন্সপায়ারড মূলত ভারতীয় ক্রেতাদের ত্বকের চাহিদা মাথায় রেখে বিজ্ঞানভিত্তিক স্কিনকেয়ারকে সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। নিজেদের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও পণ্য বিক্রি করছে সংস্থাটি। কোম্পানির লিঙ্কডইন তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের টিমে ১১-৫০ জনের মতো কর্মী রয়েছেন এবং সংস্থার সদর দফতর উদয়পুরেই। ২০২৪ সালে Beauty&You India-র পুরস্কারেও স্কিনইন্সপায়ারড জায়গা করে নিয়েছিল। ছোট শহর থেকে শুরু করে বিজ্ঞানভিত্তিক স্কিনকেয়ারকে সামনে রেখে এই ব্র্যান্ডের পথচলা তাই ভারতীয় D2C ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবেই সামনে এসেছে (Success Story)।