বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার এভিয়েশন সেক্টরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা করছে আদানি গ্রুপ (Adani Group)। শুধু তাই নয়, এবার এই গ্রুপ একটি বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, আদানি গ্রুপ নিজস্ব এয়ারলাইন (Airline) চালু করার পরিকল্পনা করছে। তবে, ভারত সরকার বর্তমানে এই প্রস্তাবের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কিঞ্জারাপু রাম মোহন নাইডু (Kinjarapu Ram Mohan Naidu) গত মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার আদানি গ্রুপকে এয়ারলাইন চালু করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে ক্রস-ওনারশিপ সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। মূলত, সরকার দেশের এভিয়েশন মার্কেটে ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়ার মধ্যে একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটাতে চায়। এর জন্য বাজারে নতুন এয়ারলাইন্স প্রবেশের প্রয়োজন। কিন্তু যখন কোনও বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা নিজস্ব এয়ারপোর্ট চালু করতে চায়, তখন কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট একটি বড় ঝুঁকি হতে পারে।
এয়ারপোর্টের পর এবার এয়ারলাইনের ব্যবসা শুরু করতে চায় আদানি গ্রুপ (Adani Group):
আদানি গ্রুপের নির্দিষ্ট দাবি: জানিয়ে রাখি যে, আদানি গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, আদানি এয়ারপোর্টস, মুম্বাই এয়ারপোর্টের ৭৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক। এদিকে, গ্রুপের আরেকটি সংস্থা, আদানি ডিফেন্স অ্যারোস্পেস এভিয়েশন সেক্টরে নিজেদের পরিধি বাড়াতে এয়ারলাইন ব্যবসায় প্রবেশ করতে চায়। এই লক্ষ্যে, গ্রুপটি চলতি বছরের জুন মাসে সরকারকে একটি নির্দিষ্ট চিঠি লেখে। এই চিঠিতে দাবি করা হয় যে, দিল্লি ও মুম্বাই বিমানবন্দরের পরিচালনাকারীর কোনও এয়ারলাইনে ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পুরনো নিয়মটি যেন তুলে নেওয়া হয়। আদানি এয়ারপোর্টসের CEO অরুণ বনসাল ৪ জুন লেখা এই চিঠিতে বলেছিলেন যে, একটি নতুন এয়ারলাইন চালু করা তাদের বিদ্যমান ব্যবসারই একটি স্বাভাবিক সম্প্রসারণ।

কীভাবে কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে: উল্লেখ্য যে, ২০০৬ সালে যখন দিল্লি ও মুম্বাই বিমানবন্দরকে বেসরকারীকরণ করা হয়, তখন চুক্তিতে একাধিক মালিকানা নিষিদ্ধ করার এই কঠোর নিয়মটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই নিয়মে যেকোনও পরিবর্তনের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। একাধিক সরকারি আধিকারিক মনে করেন যে, এই নিয়মটি তুলে দিলে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পুরো বিষয়টি কঠোর তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
এই আবহে মন্ত্রী কিঞ্জারাপু রাম মোহন নাইডু বলেছেন যে, ‘যখন কোনও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ একটি এয়ারলাইন চালাতে চায়, তখন তাদের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। আমাদের এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যা এই সমস্ত উদ্বেগের সমাধান করতে পারে।’ এদিকে, সরকারের একজন উচ্চা আধিকারিক ব্যাখ্যা করেছেন যে, বিমানবন্দর স্বাভাবিক মনোপলি ব্যবসা। কারণ এগুলোই যেকোনও শহরে প্রবেশের একমাত্র পথ। এমন পরিস্থিতিতে, দেশের বৃহত্তম বিমানবন্দরগুলি পরিচালনাকারী কোনও সংস্থাকে নিজস্ব এয়ারলাইন চালু করার অনুমতি দেওয়ার আগে খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আরও পড়ুন: T20I-তে ২০০ তম জয়! বিশ্বের প্রথম দল হিসাবে দুর্ধর্ষ নজির টিম ইন্ডিয়ার
অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলির কী প্রতিক্রিয়া: এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই ভারতের এয়ারলাইন ইন্ডাস্ট্রিতে দু’ভাগে বিভক্ত করেছে। একাধিক এয়ারলাইন এই নিয়মের কোনও শিথিলতার তীব্র বিরোধিতা করেছে। দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন ইন্ডিগোর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাহুল ভাটিয়া সম্প্রতি বলেছেন যে, ক্রস-ওনারশিপের অনুমতি দিলে স্বার্থের একটি গুরুতর সংঘাত তৈরি হবে। তিনি মনে করেন যে দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপটি গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। অপরদিকে, আকাশা এয়ারলাইন্সের প্রতিষ্ঠাতা বিনয় দুবে বিষয়টির পক্ষে রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০১৯ সালে টাটা গ্রুপ জিএমআর এয়ারপোর্টস-এ ৮,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাবওদিয়েছিল। যেটি সেই সময়ে দিল্লি ও হায়দরাবাদ বিমানবন্দর পরিচালনা করত। কিন্তু, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার তীব্র বিরোধিতার পর টাটার প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়।
আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়লেন মীরাবাই চানু! ২৮ বছর পর এশিয়ান গেমসে ভারোত্তোলনে পদক জিতল ভারত
আঞ্চলিক ফ্লাইটের ওপর সরকারের জোরালো মনোযোগ: মন্ত্রী কিঞ্জারাপু রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন যে, ভারতে আরও এয়ারলাইন্সের তীব্র প্রয়োজন। তিনি উড়ান প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন, যার লক্ষ্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিমান সফরকে সাশ্রয়ী করা। এই প্রকল্পটি নতুন উদ্যোক্তাদের আঞ্চলিক বিমান সংস্থা শুরু করতে উৎসাহিত করছে। মন্ত্রী বলেছেন যে, সরকার দেশে অন্তত ৫ টি এমন এয়ারলাইন্স চালু করতে চায়, যেগুলির প্রতিটিতে ১০০ টি করে বিমান থাকবে। জানিয়ে রাখি যে, ২০১৭ সালে চালু হওয়া উড়ান প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বিমান চলাচল বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য বিমান ভ্রমণকে সহজলভ্য করা। সরকার এর দ্বিতীয় পর্যায়ের বাজেট ৬ গুণ বাড়িয়ে ২৮,৮৪০ কোটি টাকা করেছে।













