বাংলাহান্ট ডেস্ক: পুজোর আগেই মিলবে বহু প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance)। ইতিমধ্যেই তা মেটানোর কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)৷ এবার সেই বকেয়া টাকা কীভাবে হিসেব করা হবে তা স্পষ্ট করল নবান্ন। পঞ্চম পে কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ-র টাকা কীভাবে হিসাব করা হবে? কোন প্রক্রিয়ায় কর্মীদের হাতে পৌঁছবে, এই সমস্ত বিষয় স্পষ্ট করে বৃহস্পতিবার নির্দেশিকা জারি করেছে অর্থ দপ্তর।
বকেয়া ডিএ মেটাতে আরও একধাপ এগোল রাজ্য | Dearness Allowance
অর্থ দফতর তরফে বিস্তারিত মেমোরেন্ডাম জারি করে বকেয়া ডিএ-র টাকা মেটানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে যে সমস্ত সরকারি কর্মচারীর বেতন ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা এইচআরএমএস-এর মাধ্যমে হয়নি, সেই সকল কর্মীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এতদিন এইচআরএমএস-এ ওই কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত তথ্য না-থাকায় বকেয়া হিসাব করতে সমস্যা হচ্ছিল। সেই সমস্যা দূরীকরণে এইচআরএমএস পোর্টালে একটি নতুন মেনু ‘পে ডিটেইলস এন্ট্রি ফর এরিয়ার ডিএ’ যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ‘ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার’ বা ডিডিও-কে এই মেনু ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ওই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মীদের মূল বেতন বা বেসিক পে কত ছিল, তা ডিডিও-দের পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
ডিজিটালি আপলোড করা সার্ভিস বুক পোর্টালে থাকলেও, এক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই করতে হবে ডিডিও-দের৷ তথ্যে কোনও ভুল থাকলে তার দায়ভার যাবে সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককের ওপরই। নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, “সার্ভিস বুক এবং অন্যান্য সরকারি নথির ভিত্তিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বেতনের তথ্য যাচাই করতে হবে”।
একইসাথে ওই দীর্ঘ সময়ে কারও পদোন্নতি এবং ইনক্রিমেন্ট হলে সেই সংক্রান্ত তথ্যও পোর্টালে দিতে হবে৷ নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে বেতনের ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবর্তন সিস্টেমে বাধ্যতামূলক আপডেট করতে হবে। সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে আপলোড ও যাচাই করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সিস্টেম নিজেই বকেয়া ডিএ-র হিসাব করে দেবে৷ এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বকেয়া ডিএ-র স্টেটমেন্ট তৈরি হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: মহালয়ার মধ্যেই শেষ হবে কাজ! পুজোর আগে শহরের ৫০০ বেহাল রাস্তা সারানোর আশ্বাস
সরকারি নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি কর্মীর জন্য দু’টি আলাদা বিল তৈরি হবে৷ প্রথমটি ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য ৷। দ্বিতীয়টি ২০১৬-র ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময়কালের। আরও বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কোনও কর্মীর যদি এইচআরএমএস আইডি না থাকে, তবে ডিডিও পোর্টাল থেকে নতুন আইডি তৈরি করে বেতনের তথ্য আপলোড করে বকেয়া ডিএ-র বিল জমা দেবেন। মৃত কর্মীদের ক্ষেত্রে আইনি উত্তরাধিকারীদের বকেয়া টাকা দিতে সিস্টেমে একাধিক নমিনির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার বিকল্পও দেওয়া হয়েছে।













