বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর মরশুমে হাওড়া (Howrah) শহরের রাস্তায় যাতে যান চলাচল এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা না হয়, সেই লক্ষ্যেই এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে খারাপ অবস্থায় থাকা রাস্তাগুলিকে চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। এই পর্বে মোট ১০০টি রাস্তা সংস্কারের আওতায় আসছে।
পুজোর আগেই সারাই হবে হাওড়ার (Howrah) রাস্তা
রাস্তা মেরামতির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ১০ অক্টোবর মহালয়ার আগেই চিহ্নিত রাস্তাগুলির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। শনিবার শরৎ সদনে হাওড়া পুরসভার আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মন্ত্রী। শহরের নাগরিক পরিষেবা এবং রাস্তার পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষ হওয়ার পরই শরৎ সদনের বাইরে নারকেল ফাটিয়ে রাস্তা সংস্কার কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি। এরপর সংবাদমাধ্যমের সামনে কাজের সময়সীমা এবং পরিকল্পনার কথা জানান। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “শহরের ১০০টি ভাঙাচোরা রাস্তা চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। ১০ই অক্টোবর মহালয়ার আগেই সমস্ত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
পুজোর সময় হাওড়ায় মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে রাস্তার বেহাল দশা দ্রুত কাটানোই এখন প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলিতে শহরের রাস্তায় যানবাহনের চাপ বাড়ে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মেরামতের কাজে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন হাওড়া পুরসভার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও সরব হন পুরমন্ত্রী। দীর্ঘদিন পুরসভা নির্বাচন না হওয়ার জন্য পূর্ববর্তী সরকারকে দায়ী করে অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায় নাগরিক পরিষেবা থেকে বাসিন্দারা বঞ্চিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন : স্বাস্থ্য পরিষেবায় ডিজিটাল বদল, প্রায় ১০ কোটি রাজ্যবাসীর আভা অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ
হাওড়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতিও এ দিনের আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষ করে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য দেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, গতবারের তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। বর্তমানে হাওড়ায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৩৯ বলে জানান তিনি। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও লক্ষ্য আরও বড়—সংক্রমণকে শূন্যের কাছে নিয়ে যাওয়া। এই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, “উন্নত দেশগুলো পারলে আমরা কেন পারব না?” এখন নজর থাকবে, ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে ১০০টি রাস্তার সংস্কারের কাজ কতটা এগোয় এবং মহালয়ার আগেই তা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয় কি না।













