সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স! সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছরে ‘মন কি বাত’-এ স্পষ্ট বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

Published on:

Published on:

Narendra Modi gave clear message on terrorism in 'Mann Ki Baat'
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের (Surgical Strike) দশ বছর পূর্তির প্রাক্কালে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের (India) নীতির কথা ফের তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কী বাত’-এর ১৩৮তম পর্বে তিনি ২৮-২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬-র সেই সামরিক অভিযানের কথা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাবে ওই অভিযান ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিল। তাঁর দাবি, গত এক দশকে বালাকোটের বিমান হামলা থেকে অপারেশন সিঁদুর পর্যন্ত একাধিক ঘটনায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছরে ‘মন কি বাত’-এ সন্ত্রাসবাদ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা মোদীর (Narendra Modi):

‘মন কী বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) বলেন, একসময় দেশে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ এবং বড়সড় জঙ্গি হামলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পাশাপাশি একই বছরের ২৬/১১ মুম্বই হামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে প্রতিটি বড় সন্ত্রাসবাদী হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও অনেক সময় সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যথেষ্ট পদক্ষেপ হয়নি। তাঁর কথায়, বর্তমানে ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে এবং তার ফলও দেখা যাচ্ছে। এই বক্তব্যের মধ্যেই তিনি ২০১৬ সালের অভিযানের দশ বছর পূর্তিকে ভারতের নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: রাশিয়া-সহ ৩ দেশের কাছ থেকে মিলেছে সমর্থন! UNSC-তে স্থায়ী আসনের লক্ষ্যে এগোল ভারত

২০১৬ সালের ওই অভিযানের আগে ১৮ সেপ্টেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের উরি সেনাছাউনিতে জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা নিহত হয়েছিলেন। তার কয়েকদিন পর ২৮-২৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনা নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের দিকে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর কথা ঘোষণা করে। রবিবারের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সেই ঘটনাকে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতির ক্ষেত্রে একটি নতুন বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি গত দশ বছরে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক এবং ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুরের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারত নিজের নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

এদিকে, রবিবারই জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। একটি প্রতিরক্ষা সম্মেলনে তিনি বলেন, ভারত যুদ্ধ বা অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না এবং শান্তির পক্ষেই রয়েছে। তবে সেই শান্তিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাসের চেষ্টা চলতে থাকলে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ফলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তির দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের নিরাপত্তা নীতির বিষয়ে একই ধরনের বার্তা উঠে আসে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যেও।

Narendra Modi gave clear message on terrorism in 'Mann Ki Baat'

আরও পড়ুন: মৃত্যুর পর ডেথ সার্টিফিকেটে আর গড়িমসি নয়! ১ অক্টোবর থেকে কড়া হচ্ছে নিয়ম

আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে শনিবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পাকিস্তানের নাম সরাসরি না করে এক ‘সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক চর্চাকারী’-র বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তোলেন। জয়শঙ্করের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখানোর বা তার পরিণতি থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার কোনও চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। পাশাপাশি তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসে যুক্ত রাষ্ট্রগুলিকে দায়বদ্ধ করতে হবে। ফলে ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তার পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যেও ভারতের বর্তমান সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান নতুন করে সামনে এল।