বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভায় যাওয়র পথে বাঁধা পেয়েছিলেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর গাড়িতে ডিম ও পাথর ছোঁড়া হয়। ঘটনার পর অভিযোগের আঙ্গুল উঠেছে বিজেপির (BJP West Bengal) দিকেই। এই প্রসঙ্গে কি বললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
যাঁরা ডিম ছুঁড়েছে তাঁরা বিজেপির কেউ নয় : শমীক ভট্টাচার্য
এদিন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে শমীক ভট্টাচার্য জানান, কুনাল ঘোষের গাড়ির উপরে যারা হামলা করেছে তারা বিজেপির কেউ নয়। এ সংস্কৃতি বিজেপির নয়। যারা ডিম ছুড়েছে তারা বিজেপির কেউ নয়। যারা কম পেয়েছে মানে কম খেয়েছে অভুক্ত, বঞ্চিত ওদের মত, তারা এইসব কাজ করছে। এ ধরনের ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা করছি। বিজেপির এই সংস্কৃতি নয়।
এরপর তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দিচ্ছি আমি। তিনি আমাদের একজন সম্মানীয় নেত্রী রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। উনি এখনো নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী ভাবছেন! এটা এক ধরনের ইউফোরিয়া। এটাতে আমাদের কিছু করার নেই। কারণ ৩৩৪ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়ে গিয়েছিল ২০১৫ সাল থেকে। শুধুমাত্র ২০২১ সালের ২রা মে এর সন্ধ্যা থেকে ২৭ দিনে ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন ২০০এরও বেশি গণমৃত্যু। জেসিবি মেশিন দিয়ে বাড়ি ভাঙ্গা, বিরোধী দলনেতাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা। সেই যুগে হয়েছে ১০৪ বার হাইকোর্টের দরজায় যেতে হয়েছিল বিরোধী দলনেতাকে শুধুমাত্র একটা সভা করার জন্য।
আরও পড়ুনঃ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি! এবারেও কী পাশে সোনম ওয়াংচুক?
অতীতের ঘটনা তুলে তিনি আরও জানান, আমাদের দলের একাধিক নেতা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং তখনকার রাজ্যসভাপতি সুকান্ত মজুমদারের গাড়ি কতবার ভাঙ্গা হয়েছে। দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনাদের গাড়ি কতবার ভাঙ্গা হয়েছে। কর্মীদের কথা নয় বাদই দিলাম। সুতরাং এই রাজনীতি তৃণমূলের রাজনীতি এই রাজনীতি কংগ্রেসের রাজনীতি।
এরপর তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, মমতা বন্দোপাধ্যায় একটা সময় বলেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তার বাড়িতে কেবিল লাইন ফেলে তার কথা শোনার চেষ্টা করছেন ২০১০-এ। আজকে আবার বললেন বিজেপি শ্রমিক ভট্টাচার্যরা আমার উপর নজরবন্দী করছেন। সত্যিই কি তাই?
উত্তরে, শমীকবাবু জানান, ওনার কবি মন, উনি শিল্পী মানুষ! আমারই চেতনারই রঙে চুনে উঠলো রাঙা হয়ে। উনি যেভাবে কল্পনা করছেন সেভাবে বলছেন। আর স্বাধীন দেশ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, আমাদের এরকম উন্মুক্ত সমাজ, সেখানে উনি যেরকম বলবেন বলবেন। এখানে তো কুস্তি করেন দিল্লিতে দোস্তি করবেন?
একইসাথে তিনি আরও জানান, মমতা বন্দোপাধ্যায় অন্য গ্রহের কোন বাসিন্দাকেও চিঠি লিখতে পারে। তাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি খুব একটা কিন্তু এসে যাবে না। মানুষ তৃণমূলকে চেনে, মানুষ তৃণমূলকে জানে, মানুষ তৃণমূলের স্পর্শ নিয়েছে। তৃণমূলের ভালোবাসা নিয়েছে, তো সুতরাং মানুষ তাকে এখন ভালোবেসে সরিয়ে দিয়েছে। আমরা কি করব!
শেষে তিনি বলেন, আগে কৌশলটা ঠিক করে নিন তারপরে ময়দানে আসবেন প্রতিবারই ওরা কৌশল ঠিক করে। মানে প্রতিবারই ওরা নেট প্র্যাকটিস করে, কোনদিন মাঠে নামতে পারে না। আর এবারে তো আমাদের সিম্বলটাও দারুণ দিয়েছে। দৌড়চ্ছে, মানে সাইডলাইনের বাইরে দিয়েই কিন্তু মাঠের মধ্যে নেই। সামনে কোন গোলপোস্ট নেই, যা হচ্ছে বাইরে দিয়ে। নাম নেই, গোত্র নেই, বর্ণ নেই, ছাদ নেই, একাউন্ট নেই, ব্যাংকে যা আছে ১১টার বেশি না কত একাউন্ট তাই নিয়ে মারামারি, সব শেষ।













