বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) কেন্দ্র করে আমেরিকা (America) ও ইরানের (Iran) সংঘাত ফের নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের তরফে সংঘাত থামানো এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি ফের খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরেই পালটা কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানি সেনার মুখপাত্র মহম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, আমেরিকার তরফে ফের কোনও হামলা হলে তার মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে ইরানের বাহিনী। তাঁর দাবি, ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে সংঘাত শুরু হওয়ার সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানি বাহিনী আরও বেশি প্রস্তুত।
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ করায় আরও ভয়ঙ্কর যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের (Iran)
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আবহেই কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের বার্তা দিয়েছিল তেহরান। ইরানের (Iran) বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেই সমঝোতা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালী ফের খুলে দেওয়া এবং সংঘাত থামানোর রাস্তা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছিল ইরান। এর আগে এক ইরানি আধিকারিকও জানিয়েছিলেন, আমেরিকা যদি সামরিক চাপ কমায় এবং ইরানের উপর চাপানো বাধা তুলে নেয়, তাহলে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা এগোতে পারে।
আরও পড়ুন: মাছ-মাংস তো অনেক হল, এবার বাড়ির হেঁশেলেই রাঁধুন কাঁকড়া কষা, জমে যাবে ভোজ
কিন্তু সেই কূটনৈতিক উদ্যোগের মাঝেই ট্রাম্পের বক্তব্য পরিস্থিতিকে ফের অনিশ্চিত করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের হরমুজ সংক্রান্ত প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেননি। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে ফের আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও, তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে তেহরানের মতপার্থক্য যে এখনও যথেষ্ট গভীর, তা স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, হরমুজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর সেই প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
এরই মধ্যে ইরানি সেনার তরফে এসেছে আরও কড়া বার্তা। আকরামিনিয়ার দাবি, গত কয়েক মাসে বাহিনীতে নতুন সামরিক সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে এবং সেনাদের প্রশিক্ষণও আরও জোরদার করা হয়েছে। ফলে নতুন করে মার্কিন হামলা হলে ইরান আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত। তাঁর সতর্কবার্তা, ফের সংঘাত শুরু হলে শুধু আমেরিকা ও ইরানের মধ্যেই লড়াই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা এবং সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ এবং প্রতিবেশী দেশগুলিও ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, একদিকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং সংঘাত কমানোর জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা সামনে আসছে, অন্যদিকে দুই দেশের তরফেই সামরিক প্রস্তুতি ও পালটা জবাবের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ইরানের (Iran) বক্তব্য, কূটনীতিই সমস্যার সমাধানের পথ; অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্যে উত্তেজনা কমার বদলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।













