বাংলা হান্ট ডেস্ক : হলদিয়া ও নন্দীগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার নদীপথে যাতায়াতের ছবি বদলে যেতে চলেছে। পুজোর আগেই হলদি নদীতে নামল ব্যাটারিচালিত আধুনিক যাত্রীবাহী জলযান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সোমবার থেকে শুরু হল ‘ওয়াটার মেট্রো’ (Water Metro) পরিষেবা। প্রথম দিনেই এই পরিষেবা ব্যবহার করে খুশি যাত্রীরা। তবে পুজোর মরসুমের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আবহে এই পরিষেবা চালু হওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
চালু হল ‘ওয়াটার মেট্রো’ (Water Metro)
সোমবার সকালেই হলদিয়া টাউনশিপ থেকে পরীক্ষামূলক পর্ব পেরিয়ে যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘এমভি কনকলতা বড়ুয়া’। হলদি নদীর জলপথ ধরে জলযানটির গন্তব্য নন্দীগ্রামের কেন্দ্যামারি ফেরিঘাট। নতুন এই জলযানে একসঙ্গে ৫০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জলযানটি চালাতে কোনও জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হবে না, কারণ এটি পুরোপুরি ব্যাটারিচালিত। ‘ইংল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’র সৌজন্যে পাওয়া এই জলযানকে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার অন্যতম নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিবহন দফতরের নির্ধারিত নিয়ম মেনে জলযানটির প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়েছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই পরিষেবা চালু হওয়ার পর হলদি নদী পেরিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সময় ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভাড়ার ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রাখা হয়েছে বলে পরিবহন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। যাত্রাপথ অনুযায়ী টিকিটের দাম ৫ ও ১০ টাকা। প্রতিদিন ভোর ৪টে থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে এই জলযান। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে নদীপথে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন : সুজিত বসু জেলে, শ্রীভূমির পুজোয় এবার কোন থিমে চমক থাকবে জানেন?
প্রথম দিন পরিষেবা ব্যবহার করে এক যাত্রী বলেন, “প্রথমবার যাতায়াত করছি। খেজুরিতে নদী পেরিয়ে যেতে হত। খুব সমস্য়ায় পড়তে হয়। এটা থাকলে আমরা যখন খুশি যাতায়াত করে আসতে পারব।” অন্য এক যাত্রীর বক্তব্য, “বিজেপি সরকার ভারতের শ্রেষ্ঠ জাতীয় দল। চার মাসে সরকার এসেই রাজ্যের কোণায়-কোণায় নতুন শিল্প তৈরি হয়েছে। পরিবহণ ব্যবস্থারও উন্নতি হয়েছে।” পুজোর ঠিক আগে নতুন এই জলপথ পরিষেবা চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।













