‘ভোটের আগে তো সাথেই ছিলিস! জাত-কূলে তফাৎ কী?’ ঋতব্রত শিবির নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ

Published on:

Published on:

Kunal Ghosh opens up against Ritabrata Banerjee's Trinamool Congress
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পরপর দুদিন মমতা শিবিরের নেতা তথা তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) উপর হামলা করা হয়েছে। তৃণমূল নেতার অভিযোগ তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন কুণাল ঘোষ। এই হামলা কান্ডে কুণালের নিশানায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবির। যাকে কটাক্ষ করে, ‘চাটন ঋত’ বলেও মন্তব্য করেছেন কুণাল।

‘চাটন’ ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্যের পাল্টা বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ!

সাংবাদিক বৈঠক থেকেই এদিন একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় তৃণমূল নেতার কটাক্ষ, ‘একটু আগে চাটন ঋতর শিবির থেকে বলা হয়েছে, ভোটের আগে যাদের আমার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল, যাদের সাথে আমার ছবি আছে তারাই নাকি আমার উপর হামলা করেছে । সেই জন্য নাকি সাজানো ঘটনা। আহারে, ভোটের আগে তো তোরাই আমাদের সাথে ছিলি তাহলে জাত কুলের তফাতটা কি? একদল ছুরি-বোমা- হাতুড়ি -গুলি নিয়ে আসছে আর তোরা বেইমানি করে একটু ভদ্রলোকের চেহারা নিয়ে, বেইমানির বুলি আওড়াচ্ছিস। জাত তো একই, ভোটের ফলের পর সব চেঞ্জ হয়েছে।’

এখানেই শেষ নয়, কুণাল ঘোষের আরও দাবী, ‘তা চাটন যদি ভোটের ফলের তিন দিন বাদেও মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে থাকতে পারে, আর ভোটের আগে মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ আর অভিষেক ব্যানার্জি জিন্দাবাদ বলতে পারে তার মানে কি আজকে সেটিং আছে চাটন ঋতর সঙ্গে? নাকি চাটনদের পোষা দল যে এই সমস্ত কথা বলছে।’

আরও পড়ুনঃ ‘৪ মাসে এরা একটা সেক্টরে পৌঁছে গেছে সেটা হল দুর্নীতি’, বিস্ফোরক নওশাদ সিদ্দিকী

তৃণমূল নেতার কথায়, ‘আমি মূলত বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ভিত্তিক পলিটিক্স করেছি। তার কিছু প্লাস পয়েন্ট আছে, তার কিছু মাইনাস পয়েন্ট আছে। বাট মূলত কাউন্সিলরদের সাথে। এর বাইরে যাদের সঙ্গে ছবি তারা একসময় কেউ সিপিএম করেছেন পরবর্তীতে এসেছেন তৃণমূলের অনেক বড় নেতাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। আমাদের এমপি স্নেহধন্য আছে তো কি করব ! এখন ভোট চার তারিখের পর তাদের কিছু লোক বিজেপির সঙ্গে চলে যাচ্ছে।’

একইসাথে তাঁর সংযোজন, ‘আবার এরকমও হতে পারে তাদের কেউ কেউ দপ দপ করছে অগ্নি পরীক্ষা নিচ্ছে কুণাল ঘোষকে মারবো, লাশ ফেলে দেবো। বা তাদেরকে কেউ বলছে তোমাদের ক্রিমিনাল কেস ঢেকে দেব কুণাল ঘোষকে হিট করে দাও। আরে ভোটের আগের সিচুয়েশন, আর ভোটের পরের সিচুয়েশন, যাদের ছবি দেখাচ্ছিস তোরা তাদের সঙ্গে তোদের কোনো তফাৎ নেই। জাত-কূল সব এক। বেইমান বেইমান। কেউ হয়তো অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অন্য ক্যাম্পে হামলা করছে, আর তোরা পিঠে রাজনৈতিক ছুরি মারার জন্য কাজ করছিস। রক্তের রংটা তো একই। ‘

তারপরেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ এদিন বললেন, ‘সুতরাং এইসব দেখিয়ে কিছু করা যাবে না। আমার ওপর যারা হামলা করেছে, সে যারাই করে থাকুক তাদের অ্যারেস্ট কেন করছে না পুলিশ? তাতেই তো প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে বিজেপির প্রশ্রয় পাচ্ছে। বিজেপি হয়তো এসব ঠিকা শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে।’

আরও পড়ুনঃ উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী, ভোট মিটলেই আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

বিজেপির উদ্দেশ্যে কুণাল এদিন বললেন, ‘বিজেপির নেতারা আমার সমালোচনা করুক আমি বুঝে নেব। কিন্তু বিজেপির দালাল গুলো মাঝখান থেকে কেন আসছে ঘেউ ঘেউ করতে? বিজেপির সমালোচনা করলে আমি তাদের কোন কিছু বলছি না, তাদের কথা তারা বলছেন। কিন্তু বিজেপির বি টিম, চাটন নাকি আবার বিরোধী। বিরোধীদের প্রথম কাজ হচ্ছে বিরোধীদের বিরোধিতা করা । এরা আবার সরকারের বিরোধিতা করে না বিরোধীদের বিরোধিতা করে।’

সবশেষে কুণালের সংযোজন, ‘ভোটের আগের ছবি যদি দিবি নিজেদের ছবি দাও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর পায়ে পড়ার ছবি দাও। ঋত উলুবেড়িয়ায় বলেছে মমতাদি জিন্দাবাদ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ তার ছবি দাও। কুনাল ঘোষ এর পাশে দাঁড়িয়ে তুমি গুরুর ব্রহ্মা গুরুর বিষ্ণু বলছো তার ছবি শুধু। শুধু কয়েকটা এই ধরনের ছেলেপুলের ছবি দিয়ে কি বোঝাচ্ছিস রে ভাই?’ একইসঙ্গে তাঁর দাবী, ‘আমার ওপর খুনের চেষ্টা হয়েছে তাদের অ্যারেস্ট করতে হবে।’