বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাঝআকাশে ভয়াবহ হামলার পর গুরুতর আহত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার (Captain Smit Machchhar) এখন সৌদি আরবের (Saudi Arabia) তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর চিকিৎসা নিয়ে এখনও কোনও পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এই পরিস্থিতিতে স্মিতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করে পরিবারের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও জানানো হয়েছে, নিজের জীবন বিপন্ন করেও যাত্রীদের রক্ষা করার জন্য স্মিতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কেমন আছেন ফ্লাইদুবাই বিমানে আহত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার (Captain Smit Machchhar)?
ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে। প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে উড়ানটি সৌদি আরবের আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ককপিটে আচমকা হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের (Captain Smit Machchhar) উপর হামলা চালান এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় বিমানটি আচমকা কয়েক হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিমানটিকে সম্ভাব্য হাইজ্যাক হিসেবে বিবেচনা করে জরুরি পদক্ষেপ নেয়। তবে ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও হামলার পেছনে থাকা কারণ এখনও তদন্তাধীন।
হামলায় গুরুতর জখম হলেও স্মিত হাল ছাড়েননি। বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তৃপক্ষের বয়ান অনুযায়ী, আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। বিমানে থাকা আরও কয়েকজন পাইলট শেষ পর্যন্ত বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সেটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। সেখানেই দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্মিতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার সময় তিনি গুরুতর আহত হলেও তাঁর ভূমিকার কারণেই আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। মোদি তাঁকে ‘হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গুরুতর আহত অবস্থাতেও অন্যদের জীবন রক্ষায় তিনি অসীম সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। নেতানিয়াহুও জানান, আহত হওয়ার পরেও স্মিত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার ফলে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টও তাঁর সিদ্ধান্ত ও সাহসের প্রশংসা করেছেন। ফলে ঘটনাটির পর আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতীয় পাইলটের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এখনও স্মিতের (Captain Smit Machchhar) চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তাবুকের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই পাইলটের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করেছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। ফ্লাইদুবাইও ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। ফলে মাঝআকাশে ঠিক কী কারণে এই হামলা হয়েছিল এবং কীভাবে ককপিটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও তদন্তের অপেক্ষায়। তবে গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত যে ভূমিকা নিয়েছেন, তা ইতিমধ্যেই তাঁকে এই ভয়াবহ উড়ানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত করেছে।













